আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিনিধি দল এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মকর্তা ভোট পর্যবেক্ষণে মাঠে যাবেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে তারা নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে নয়, নিজেদের উদ্যোগেই ভোট পরিস্থিতি দেখতে যাবেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা—এই চারটি অঞ্চলে ভোটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা জানিয়েছেন, তারা স্বতন্ত্রভাবে পর্যবেক্ষণে যাবেন এবং এতে নির্বাচন কমিশনের কোনো আপত্তি নেই। কোন কোন স্থানে তারা যাবেন, তার একটি তালিকা কমিশনকে দেওয়ার কথা বলেছেন। তালিকা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ভোটের দিন যানবাহন চলাচলের ওপর সম্ভাব্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি জানায়, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কত সময় এবং কোন ধরনের যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে, তা মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করবে।
বৈঠকে ব্যালট পেপারের নকশা ও আকার, পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে মার্কিন প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেয়ে তারা এটিকে জটিল ও পরিশ্রমসাধ্য বলে মন্তব্য করেন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তারা করেছেন কি না—এমন প্রশ্নে আখতার আহমেদ বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। বরং তারা জানতে চেয়েছেন, নির্বাচন কমিশন কীভাবে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা করছে। এ সময় কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সেল, ইনকোয়ারি কমিটি এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, আজও একটি জেলা থেকে অভিযোগ এসেছে, যা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ভোটের সার্বিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিনিয়র সচিব জানান, সারা দেশে বিভিন্ন স্তরে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবে। এই ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও মার্কিন প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে, আগামী ৩১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর নারী সমাবেশের ঘোষণা এবং তাদের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান।
/ইউএমএইচ