ব্যাংক ঋণের নীতি সুদহার কমানোর ব্যাপারে গভর্নর ‘গোঁ’ ধরে আছেন; তবে তিনি কেন এমন ধরে আছেন আমার বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে বড় বড় দুর্নীতি কমেছে। কিন্তু অন্য দুর্নীতি আছে। মামলা বাণিজ্য আছে, বদলি বাণিজ্য আছে। কলেজে একটি বদলি করতে ৮ লাখ টাকা লাগে। গোয়েন্দা সংস্থাকে বলেছি, কিন্তু তারা এসব বের করতে পারেনি।
বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আগের সরকারের ফেলে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আছে। এ বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হতে পারে। মূল্যস্ফীতি যতটা কমার কথা, ততটা কমেনি। গত সরকারের আমলে আপাতদৃষ্টিতে অর্থনীতি ভালো ছিল মনে হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংক খাতের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছিল, তা বোঝা যাচ্ছিল। বিপুল অর্থ বিদেশে চলে গেছে। আর্থিক খাতের নিয়মশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছিল, যা বাজেটের শৃঙ্খলাকে নষ্ট করে। ২০২৪ সালে অভ্যুত্থান না হলেও পরে অভ্যুত্থান হতো, তা বোঝা যাচ্ছিল। যারা এসব (দুর্নীতি, অন্যায়) করেছেন, তারা তা বুঝতে পেরে অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে রেখে গেছেন।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার এনজিও সরকার হলেও অর্থনীতির জন্য কাজ করেছে। আসলে আমরা এনজিওর মতো কাজ করছি না, আবার পুরোপুরি স্বাভাবিক বা রাজনৈতিক সরকার হিসেবেও কাজ করছি না। আমি নিজেও এখনও বোঝার চেষ্টা করছি, এটি ঠিক কী ধরনের সরকার। অত্যন্ত অস্থিতিশীল একটি সময়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করায় এর ম্যান্ডেট ও চরিত্র স্বভাবতই জটিল। একদিকে অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত প্রত্যাশাগুলো বহন করছে; অন্যদিকে এর একটি আংশিক সাংবিধানিক ভিত্তিও রয়েছে। সব মিলিয়ে, এটি এমন একটি সরকারব্যবস্থা যা বাংলাদেশ আগে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি বলে মন্তব্য করেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
এ দিকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিওদের সরকার’ দাবি করে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার কোনো বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত নেয়নি। তারা যেহেতু এনজিও থেকে এসেছেন, এনজিওগুলোর মাধ্যমেই সারা দেশ চালানোর চেষ্টা করেছেন।
দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না, এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জমির মিউটেশন করতে ডিসির কাছে এবং তার বিভিন্ন অফিসের মাধ্যমে যে হয়রানি হয়, তারপর চাঁদাবাজিও আছে। এটাকে বলে এলআর ফান্ড, না কি? আগে ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো। এখন লাগে ১০ লাখ টাকা, যা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আজম জে চৌধুরীসহ বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্তি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আবদুল মোমেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার এবং সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
সময়ের আলো/জেডআই