বিগত সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি জীবনকে আরও কঠিন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বিগত সময়ে আইসিটি খাতে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে এর সুফল মানুষ ভোগ করতে পারেনি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার বনানী ক্লাবে একটি আইটি সংক্রান্ত প্রোগ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।
মঈন খান বলেন, আইসিটি ব্যবহারের কাজ বাংলাদেশে বিএনপি সরকার প্রথম শুরু করেছিল। তখন বেগম খালেদা জিয়া একটি মন্ত্রণালয় (আইসিটি মন্ত্রণালয়) সৃষ্টি করেছিলেন এবং সে মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে আধুনিকায়নের জন্য। কিন্তু আমাদের যে প্রথম চেষ্টা সেটা কেন পুরোপুরি অর্জিত হয়নি? আমি আজকে থেকে তিন-চারদিন আগে নিজের একটি উদাহরণ দিচ্ছি। আমাদের একটি গাড়ির যে ট্যাক্স দিতে হয়, সেটা দেবার প্রক্রিয়াটা আধুনিক করা হয়েছে। এটা এখন ম্যানুয়ালি না দিয়ে, এটা আপনার কম্পিউটার আইসিটি টেকনোলজির মাধ্যমে আদায় করা হয়। এই ট্যাক্স ব্যাংকে দিতে গিয়ে যখন চেষ্টা করা হলো তারা বলল যে, ‘এটা আমরা করতে পারছি না। সার্ভারে সমস্যা হচ্ছে। সার্ভারে কি সমস্যা হচ্ছে? কোনো নম্বরের সঙ্গে কোনো নম্বর মিলছে না। তারপরে সেটা নিয়ে একদিন যায়, দুদিন যায়, তিন দিন যায়, এর মধ্যে ট্যাক্স দেবার যে শেষ দিন ছিল, সেই শেষ দিনটি পার হয়ে গিয়েছে। তো পুরো কাজটি করতে সাত দিন লেগেছে এবং যে পরিমাণ হয়রানি হয়েছে সাতটি অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা বিগত ১৫ বছরে দেখেছি, আইসিটি নামে আসলে টেকনোলজির কোনো উদ্ভাবন হয়নি। টেকনোলজির কোনো প্রয়োগ হয়নি। এখানে হয়েছে দুর্নীতি, সীমাহীন দুর্নীতি। আপনারা হয়তো অনেকে জানেন না। নতুন প্রজন্ম জানে না।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আইসিটি নগরী করার জন্য জমি অধিগ্রহণ ও ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেও তার ফলাফল যে শূন্য সে কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইসিটির নামে দুর্নীতি হয়েও যদি মানুষের সেবা সঠিকভাবে দিতে পারত, তাহলেও আমি বুঝতাম যে কিছু অর্জন হয়েছে। আমরা চাচ্ছি সবাইকে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের জীবনযাপন প্রক্রিয়াকে সহজ করাটাই হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্য যদি সাধিত না হয়, তাহলে তো আমি আইসিটি করলাম কিনা করলাম, তাতে তো কিছু এসে যায় না।
আরআর