ষড়ঋতুর হিসাবে পৌষ-মাঘ শীতের ঋতু। কিন্তু বাস্তবে শীতের সেই দাপট নেই। তবুও শীতের এ বিদায়লগ্নে আবারও দাপট দেখাতে পারে শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদফতরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি মৃদু শৈতপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর মাসের শেষ দিকে এক বা দুই দিন বজ্রবৃষ্টি বা শীলাসহ বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক মাস মেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলেছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসতে পারে। এছাড়া দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা অথবা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নাই।
এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘আবহাওয়াবিদ্যার ভাষায় ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই তিন মাস শীতকাল। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকেই প্রি-মুনসুন শুরু হয়। আবার ফেব্রুয়ারিতে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে বেশি থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘শৈতপ্রবাহের সময় কোনো কোনো জায়গায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পর মাসের শেষ দিকে প্রি-মুনসুন ও পোস্ট মুনসুনে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যায়। সে হিসাবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ১-২ দিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।’
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচও