শবে বরাত বা নিফসে শাবানে ইবাদতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এ রাতের যত ইবাদত আছে সবই নফল। শবে বরাতের বিশেষ কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইবাদতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়নি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে আলেমরা শবে বরাতে কুরআনে কারিম তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার এবং নফল নামাজ পড়ার কথা বলেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নফল নামাজ পড়েছেন বলে হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত।
নির্দিষ্ট বা আলাদা কোনো নিয়মে এই রাতে আল্লাহর রাসুল ও সাহাবিদের থেকে নামাজ বা অন্য ইবাদতের কথা প্রমাণিত নয়। তবে এই রাতকে ঘিরে বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজের নির্দিষ্ট নিয়মকানুন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত নামাজ পড়তে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সুরা এতবার পড়তে হবে এগুলো ঠিক নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা। শবে বরাতে কেউ নফল নামাজ পড়তে চাইলে তার নিয়ম হলো, অন্য নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে পড়া। প্রতি রাকাতেই সুরা ফাতেহার পর পবিত্র কুরআনের যেকোনো সুরা পড়া। এরপর যথানিয়মে রুকু-সেজদা করা এবং অন্য রুকনগুলো আদায় করা। এভাবে দুই রাকাত নামাজ শেষ করা।
দুই বা চার রাকাত নামাজ পড়ার পর কিছু সময় দোয়া-দরুদ, তসবি-তাহলিল পড়া, জিকির করা, কুরআন তেলাওয়াত করা। এরপর আবার নামাজে দাঁড়ানো। নামাজের পর আবার জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তেগফার করা, দ্বীনি আলোচনা শোনা, কুরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা পড়া ইত্যাদি। এভাবে সাধ্য অনুযায়ী যত রাকাত নামাজ পড়া যায় পড়তে পারেন। রাকাতেরও নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। পবিত্র কুরআনে যথাসাধ্য নফল ইবাদত করার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। তবে শবে বরাতে নফল নামাজ, ইবাদত-বন্দেগির ব্যাপারে বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি কোনোটাই করা যাবে না। সাধ্যমতো যতবেশি পরিমাণে সম্ভব নফল নামাজ পড়া উত্তম।