ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচেনের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এরই মধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের আওতায় গত মঙ্গলবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
একইসঙ্গে তারা দেশের চলমান সংস্কারবিষয়ক গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ছিল এই বিশেষ ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের শেষ দিন।
এদিন নিবন্ধিত বাকি ১ হাজার ৯২৩ জন বন্দিও ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। এই ভোট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পান কারাগারে আটক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা ৩৯ জন হাই-প্রোফাইল বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং জুনাইদ আহমেদ পলক।
কারা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। ঢাকা বিভাগকে দুটি সাংগঠনিক ভাগে ভাগ করে এই ভোট কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
এদিকে, কেরানীগঞ্জ বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ তায়েফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে মোট নিবন্ধিত ভোটার ৮৯ জন।
পরবর্তীতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্থানান্তরিত ১৩ জনকে যুক্ত করে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০২ জনে।
তিনি আরও জানান, এই ১২ জন বিশেষ বন্দির মধ্যে তিনজন রাজনৈতিক বন্দি এবং ৯ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে দুজন সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন সাবেক মন্ত্রী রয়েছেন।
সময়ের আলো/এনএ