ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোট দিতে আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ। তবে, নির্বাচনে ভোট দিতে হলে মানতে হয় কিছ নিয়ম-নীতি। প্রতিটি ভোটারের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে এবং পরে কিছু বিষয় জানা জরুরি। ভোট দিতে কী কী তথ্য প্রয়োজন, কীভাবে ভোট দেবেন, কীভাবে ভাঁজ করবেন এবং নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলবেন-এসব বিষয়ে জানা জরুরি।
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে যা জানতে হবে
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। প্রথমে জানতে হবে সঠিক ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর। এটি জানা থাকলে আপনার সময় বাঁচাবে এবং বিভ্রান্তি কমবে। এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ, কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। এসব তথ্য সহজে জানতে নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।
ভোট প্রদানের ধাপগুলো দেওয়া হলো-
ভোটার তথ্য যাচাই : ভোট দিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই জানতে হবে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর। এই তথ্য আগে থেকে জানা থাকলে ভোটকেন্দ্রে সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি কম হবে। তথ্য জানতে ব্যবহার করা যেতে পারে-নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ’ (গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোডযোগ্য)।
হটলাইন ১০৫ : কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপুন, ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন।
এসএমএস : মোবাইল মেসেজে লিখুন ‘পিসি এনআইডি’ এবং পাঠান ১০৫-এ। ফিরতি এসএমএসে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানানো হবে।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি : ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে। চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র সঙ্গে রাখা নিষিদ্ধ।
ভোটার তালিকায় নাম যাচাই
পোলিং অফিসার ভোটার তালিকায় আপনার নাম এবং ক্রমিক নম্বর যাচাই করবেন। ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি মিললেই ভোট দেওয়া সম্ভব। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। কোনো সমস্যা হলে পোলিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। তারা আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন।
ব্যালট গ্রহণ
প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট)। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি। ব্যালট পেপারের পেছনে অবশ্যই অফিশিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না দেখে নিতে হবে। ব্যালট গ্রহণের সময় নিশ্চিত করুন যে, এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অন্য কেউ দেখছে না। ব্যালট হাতে নেওয়ার পর যতক্ষণ না আপনি নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলেন, এটিকে অন্যের সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
ব্যালট পূরণ ও ভাঁজ
ব্যালট পেপার নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে ভোট প্রদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যেতে হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটটি যেন বাতিল না হয়, সে জন্য ব্যালট ভাঁজ করা প্রত্যেক ভোটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত, লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ। ব্যালটের কোনো অংশ ভাঙবেন বা অন্য কারো নজরে আসবে এমনভাবে দেখাবেন না।
ব্যালট বাক্সে ফেলা
ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্তস্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে ভোট দিতে হবে। নিশ্চিত হোন যে ব্যালটটি বাক্সে পড়ে গেছে এবং কোনো সমস্যা হয়নি। পোলিং অফিসার আপনাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
ভোট দেওয়ার নিশ্চিতকরণ
ব্যালট বাক্সে আপনার ভোট দেওয়ার পর নিশ্চিত করুন যে ভোটটি গোপন ও সুরক্ষিত অবস্থায় পৌঁছেছে। কোনো প্রয়োজন হলে পোলিং অফিসারের কাছ থেকে ভোট প্রদানের রসিদ বা নিশ্চিতকরণ নিতে পারেন।
সময়ের আলো/এনএ