ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ গণভোটকে এবারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুমোদনের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার কার্যকর হবে কি না—তা নির্ধারণে এই গণভোট ছিল একটি নির্ণায়ক পদক্ষেপ।
ভোটের আগেই সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, প্রচারপত্র ও গণমাধ্যমে সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে অনলাইনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের একটি অংশ ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর সমালোচনা করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরা হয়। ফলে গণভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনআলোচনা ছিল ব্যাপক।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি, আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। অর্থাৎ বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট এগিয়ে রয়েছে। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি। তবে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি ভোট বাতিল হয়েছে, যা সামগ্রিক ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
সব মিলিয়ে গণভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। শতাংশের হিসেবে এটি মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণ নির্দেশ করে। এই হার সংসদ নির্বাচনের ভোটের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক গণভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পরদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসনের নির্বাচনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকলেও ওই দুই আসনে গণভোটে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ফলে সেসব আসনের গণভোটের ভোট চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এ কারণেই সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোটে ভোটের হার কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
সামগ্রিকভাবে, এবারের গণভোট দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভোটার সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন।
/ইউএমএইচ