ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিলাওয়াত করা হয় পবিত্র কোরআনের সুরা নাহলের ৯১ নং আয়াত।
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা যখন পরস্পরের অঙ্গীকারে আবদ্ধ হও, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃতপক্ষে তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।’
এ আয়াতের তাৎপর্য হলো, শপথ বা চুক্তি রক্ষা করা শুধু আল্লাহর সম্মান এবং আধ্যাত্মিক কর্তব্য নয়, বরং সমাজে ন্যায়, স্থিতিশীলতা ও আস্থা রক্ষার মূল ভিত্তি। বিশেষভাবে মানুষের মধ্যে বা একে-অন্যের সঙ্গে করা অঙ্গীকার পূরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ব্যক্তিগত বা অন্যায় উদ্দেশ্যে শপথের ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গের শর্তও কোরআনে এবং সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, যেখানে কাফফারা দিয়ে উত্তম কাজ করা সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাসুল (সা.) বলেন, শপথের বিপরীত কোনো কাজ যদি উত্তম ও কল্যাণকর হয়, তবে শপথের কাফফারা আদায় করে সেই কল্যাণকর কাজ করাই উত্তম। এ শিক্ষার মাধ্যমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মনে করানো হয় যে, দেশ ও জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখা তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
শপথ অনুষ্ঠানে এই আয়াতের তিলাওয়াতের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা গৃহীত হলো- জনগণকে সেবা করা ও অঙ্গীকার রক্ষা করা তাদের প্রধান কর্তব্য, এবং এটি শুধু আইনগত নয়, আধ্যাত্মিক দায়িত্বও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আয়াতের উদ্ধৃতি শপথ অনুষ্ঠানে করা হয়েছে যাতে নবনির্বাচিত সদস্যরা কেবল কাগজে নয়, বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে দায়িত্বশীলভাবে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
এএডি/