শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ১৬ বছরে ১৪টি ভাষার মধ্যে মাত্র চারটি ভাষা সংরক্ষিত হয়েছে। অগ্রগতির মাত্রা অনেক ধীর। জানি না ধীর কেন। যেই উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করা হয়েছিল, সেটা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘‘বাংলা ভাষা পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ ভাষা। এই ভাষা নিয়ে আমরা গর্বিত। বাংলা ভাষা সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জানি না আগামী দিনে আরও কেউ পাবে কী না। তবে আমাদের অনেক সুধীজন রয়েছেন, যারা বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাকে ‘এড্রেস’ করতে রাজি নন।’’
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের হেড অব এডুকেশন নরিহিদে ফুরুকাওয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা। স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
মূল প্রবন্ধে আবুল মনসুর মুহম্মদ আবু মুসা বলেন, ‘‘১০০ বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ভারতবর্ষে একটি জরিপ হয়েছিল। সেই জরিপের নাম ছিলো ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অব ইন্ডিয়া’। এরপর আর এ নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। জরিপ না হলে এটা জানা কঠিন যে, এখানে কতগুলো ভাষা, উপভাষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা আছে। এর জন্য বড় কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি।’’
অনুষ্ঠানে লিংগুইস্টিক অলিম্পিয়াড ২০২৬–এর ছয়জন বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট, মেডেল এবং প্রাইজমানি প্রদান করা হয়। এছাড়া শহিদ দিবস উপলক্ষে ইনস্টিটিউটের চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়।
সময়ের আলো/কেএইচও