ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দালালের জায়গা হবে না

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো দালালের জায়গা হবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী

2026-02-22T02:04:29+00:00
2026-02-22T02:04:29+00:00
 
  শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬,
২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
জাতীয়
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন
ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দালালের জায়গা হবে না
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৪ এএম   (ভিজিট : ৩০৩)
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন। সংগৃহীত ছবি
বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো দালালের জায়গা হবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সরকার সরাসরি ৫০ লাখ পরিবারের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেবে। এ জন্য কোনো নির্দিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। পছন্দমতো যেকোনো উপায়ে মানুষ ফ্যামিলি কার্ডের সেবা গ্রহণ করতে পারবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে থাকছেন না স্থানীয় সরকারের কোনো জনপ্রতিনিধিও। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনায় এই কার্ড দেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডির বাসায় সময়ের আলোকে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন। 

নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিতে যে ৯ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার দিয়েছিলেন সেটির অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড। নতুন প্রধানমন্ত্রী তার বিভিন্ন জনসভা ও আলোচনায় এ কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। দলের তরফে বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ ও পণ্য- সেবার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। 

আলাপচারিতায় মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সরকারের প্রথম কাজই হলো- ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই দায়িত্ব নেওয়ার দুদিন পর থেকেই আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে সারা দেশে ৫০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে সরকারের খরচ হবে ১২ হাজার কোটি টাকা। আশা করি এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো নয়ছয় হবে না। কোনো দুর্নীতি হবে না। এই কার্ড সবার জন্য সমান। প্রত্যেক পরিবারে পাবে। এখানে কোনো রাজনৈতিক ভেদাভেদ কিংবা তদবির থাকবে না। 


মাঠ পর্যায়ে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, জবাবে তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরের পূর্বেই এ কার্ড প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। যেখানে আমি নিজে সদস্য সচিব হিসেবে আছি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রয়েছেন। 

ডা. জাহিদ জানান, এই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের একটি উপযুক্ত ডিজাইন প্রণয়ন এবং সুবিধাভোগী নির্বাচন পদ্ধতি প্রণয়ন; প্রাথমিক পর্যায় দেশের ৮টি বিভাগের প্রতিটিতে ১টি করে উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তনের ব্যবস্থা গ্রহণ; নারীদের জন্য বিদ্যমান অন্য কোনো কর্মসূচিকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না তা পর্যালোচনা; সুবিধাভোগীদের ডাটাবেজ প্রণয়নের লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র আন্তঃসংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্যে কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে। ইতিমধ্যে এই কমিটি মাঠ পর্যায়ে কিছু নির্দেশনা দিয়ে কাজ শুরু করেছে। 

বিরোধী পক্ষ জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দুর্নীতি হওয়ার আশঙ্কায় সমালোচনায় মুখর ছিল ভোটের আগে। তখন তা নিয়ে আলোচনাও তৈরি হয়। 

এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের এই কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মী। তারা প্রাথমিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ দেখে তালিকা করবেন। এই কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশও সম্পৃক্ত থাকবেন না। 

মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিরোধে ফ্যামিলি কার্ডের সেবা নির্দিষ্ট কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। যেমন বিকাশ কিংবা নগদ এগুলো সুনির্দিষ্ট করা থাকলে একচেটিয়া বাণিজ্য হবে। যে যেভাবে সুবিধা মনে করে সেভাবে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। অর্থাৎ মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংক যেকোনো উপায়ে সুবিধা নিতে পারবেন। এই কার্যক্রমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের স্থান হবে না। কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনায় এই কার্ড দেওয়া হবে না। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হলেও বর্তমানের প্রচলিত অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির ভাতাগুলো আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ নতুন এই সুবিধার কারণে কেউ পুরোনো ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না। 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক হিসেবে প্রশংসা কুড়ান জাহিদ হোসেন : অধ্যাপক ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। একসঙ্গে দুটি মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন তিনি। একটি নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্যটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬৫ বছর বয়সি জাহিদ হোসেন দিনাজপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্রথম ভোটের লড়াইয়ে নামেন তিনি, প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হলেন। 

জাহিদ হোসেনের পৈতৃক বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রামে। ১৯৬০ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 

গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ কে এন হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক ও আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে এফসিপিএস, ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউরোলজিতে এমএস, ২০০৪ সালে পাকিস্তানের কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স থেকে এফসিপিএস, ২০০৬ সালে যুক্তরাজ্যের (এডিনবরা) রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স থেকে এফআরসিপি ফেলোশিপ অর্জন করেন তিনি। দেশে ও বিদেশে তিনি মূলত ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। 

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে এজেডএম জাহিদ হোসেন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার দীর্ঘ সময় জাহিদ হোসেন প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে হাসপাতালে তার চিকিৎসা ও সেবা ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন। মেডিকেল বোর্ডেরও সমন্বয় করতেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি তার এই দায়িত্ব ও দরদ দেশবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দুবার নির্বাচিত মহাসচিব ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে জাহিদ হোসেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। এরপর ২০১৬ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   ফ্যামিলি কার্ড  বাস্তবায়ন  দালাল  সমাজকল্যাণ মন্ত্রী  ডা. জাহিদ হোসেন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: