সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর) আসনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দিন পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় এবং তাদের প্রার্থী ও এজেন্টদের নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, বিভিন্ন কেন্দ্রে রিকশা প্রতীকের এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এমনকি দলটির আমির ও প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক একটি কেন্দ্রে অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন এবং পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সেখান থেকে বের হতে বাধ্য হন।
ভোট গণনার সময় ‘টেম্পারিং’ ও ‘ওভাররাইটিং’-এর মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের ভোট অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো এবং রিকশা প্রতীকের বহু বৈধ ভোট বাতিলের অভিযোগও তোলে দলটি। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই গেজেট প্রকাশ করাকে তারা ভোটারদের অধিকার অবজ্ঞা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন
সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে উত্তেজনার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে আহত হায়দার আলীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করা হয়। পাশাপাশি, মোহাম্মদপুরে জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী ইব্রাহিম খলিলের ওপর হামলার অভিযোগ এনে সাক্ষীদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
দলটির অভিযোগ, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও মামলা দেওয়া হচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের ছয় দফা দাবি-১. ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল বাতিল ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
২. নির্বাচনী অনিয়ম ও হায়দার আলীর মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত।
৩. ইব্রাহিম খলিলের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি।
৪. সারাদেশে নির্বাচনী অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন।
৫. রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা বন্ধ।
৬. নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতার বন্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘ঢাকা-১৩ কেবল একটি আসন নয়; এটি জনগণের ভোটাধিকার ও গণবিশ্বাসের প্রশ্ন।’
এএডি/