কাঙক্ষিত ও আদর্শ প্রস্তুতি না হলেও অদম্য মনোবল নিয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। এএফসি এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে নামার আগে ঘরের মাঠে নারী লিগ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন আফঈদা, রুপনা ও মনিকারা। যদিও জাপান, কোরিয়া বা ভিয়েতনামে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করার পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখেনি, তবু সিডনির ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে মরিয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সিডনির উদ্দেশে দেশ ছাড়ে বাংলাদেশ দল। পৌঁছানোর পরদিন থেকেই শুরু হয় মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতি। বর্তমানে সিডনিতে দলের সময়টা বেশ ভালোই কাটছে। অনুশীলনের গতকাল চতুর্থ দিনেও ঋতুপর্ণা চাকমাদের ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে। বিশেষ করে আবাসন ব্যবস্থা ও মাঠের দূরত্ব কম হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন ফুটবলাররা।
জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পাওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড আলপি আক্তার সিডনির সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক গরম। আমাদের বাংলাদেশেও এত গরম এখনও পড়ে নাই। এখানে অতিরিক্ত গরম, তাই এটার সঙ্গে আপাতত মানিয়ে নিতে হচ্ছে আমাদের। আমরা এক জায়গায় থাকছি; মাঠ, জিম, সবকিছু হচ্ছে এক জায়গায়। বাস দিয়ে যাওয়া লাগছে না মাঠে, তো ভালো লাগছে।’
আলপি আক্তার ঘরোয়া ও বয়সভিত্তিক ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। সবশেষ নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে মাত্র ১০ ম্যাচে ৩০ গোল করার অবিশ্বাস্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি। এরপর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টেও সর্বোচ্চ ৭ গোল করে গোলক্ষুধা ও ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন এই উদীয়মান তারকা। জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলন নিয়ে আলপি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল যে ন্যাশনাল টিমের সঙ্গে প্র্যাকটিস করা, ন্যাশনাল টিমে খেলা, তো সেই ইচ্ছাটা পূরণ হচ্ছে অনেক দিন পরে। অনেক ভালো লাগছে আপুদের সঙ্গে প্র্যাকটিস করে।’
সিডনির এই ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি এএফসি নির্ধারিত হোটেলে উঠবে বাংলাদেশ দল। এরপর শুরু হবে মূল লড়াই। এশিয়ান কাপের গ্রুপপর্বে ৩ মার্চ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর সিডনিতেই ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবেন আলপি-আফঈদারা।