২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণের পর রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখল করেছে।
রাশিয়া যুদ্ধের প্রথম দিকে পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনের বিশাল অংশ দখল করে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিয়েভ সামনের সারির যুদ্ধগুলোতে শক্তিশালী হয়ে ওঠায় মস্কোর সাফল্য কমে গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে পুতিন বাহিনী ২০২৩ সালের শুরু থেকে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের মাত্র ১.৩% দখল করতে পেরেছে।
তারা বলছেন, সামান্য আঞ্চলিক লাভের জন্য রাশিয়ানদের জীবনে ক্রমাগত ঝুঁকির বাড়ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে গত দুই মাসে রাশিয়ার প্রায় ৬৫,০০০ সৈন্য নিহত বা আহত হয়েছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়া পাগলের মতো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) কর্তৃক জানুয়ারিতে প্রকাশিত হিসাব অনুসারে, রাশিয়ান বাহিনী গড়ে প্রতি মাসে ২৬,০০০ এরও বেশি হতাহতের শিকার হয়েছে , যার মধ্যে নিহত, আহত এবং নিখোঁজ সৈন্য রয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে (২০২২ সাল) এখন পর্যন্ত মোট ১.২ মিলিয়ন বা ১২ লাখ রাশিয়ান হতাহত হয়েছে।
যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই পরিসংখ্যানের বিরোধিতা করেছেন।
তিনি বলেছেন, আমি মনে করি না যে এই ধরনের প্রতিবেদন নির্ভরযোগ্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বা বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, বিশেষ সামরিক অভিযানের সময় যে কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দেওয়ার অধিকার শুধু প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
মস্কো বা কিয়েভ কেউই সম্প্রতি সরকারিভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের অনুমানের সঠিকতা যাচাই করতে পারেনি। চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের তীব্রতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
যদিও সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে যুদ্ধে আক্রমণকারীকে প্রায়শই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
সিএসআইএসের অনুমান, যুদ্ধে নিহত প্রতি ইউক্রেনীয় সৈন্যের জন্য রাশিয়া ২ থেকে ২.৫ জন সৈন্য হারিয়েছে।
সিএসআইএস-এর মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ান হতাহতের সংখ্যা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সমস্ত রাশিয়ান এবং সোভিয়েত যুদ্ধের মিলিত সংখ্যার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি।
মস্কোর ক্ষয়ক্ষতি ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে ১৭ গুণ বেশি এবং ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে উভয় চেচেন যুদ্ধে নিহত রাশিয়ান বাহিনীর চেয়ে ১১ গুণ বেশি।
/এমএইচআর