আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। তালেবান সরকার নারী শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ইউনেস্কো জানায়, গত বছরের হিসাবের তুলনায় মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা আরও ২ লাখ বেড়েছে।
আফগানিস্তান বর্তমানে বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। নারীদের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘ দেশটির পরিস্থিতিকে ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবৈষম্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
২০২২ সালের মার্চে আফগান মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয় তালেবান সরকার। একই বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের পড়াশোনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দুই দশকের যুদ্ধের পর তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে আসে।
তালেবান প্রশাসন নারীদের ছেলেদের পড়ানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে যোগ্য নারী শিক্ষকরা বাদ পড়েছেন এবং ছেলেদের পড়াতে অপ্রশিক্ষিত পুরুষ শিক্ষকের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ১১ হাজারের বেশি যোগ্য নারী শিক্ষকের ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউনেস্কো।
নারী শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আফগানিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা ও অর্থনীতি নানা সংকটে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
দেশটির অনেক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা শীত মোকাবিলার ব্যবস্থা নেই। গত পাঁচ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ১ হাজার বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রাথমিক পর্যায়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০ লাখের বেশি শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশ একটি সাধারণ লেখা পড়তে পারে না। এর ফলে দেশটির সামগ্রিক সাক্ষরতার হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশে।
মেয়েদের শিক্ষা পুনরায় চালু করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও তালেবান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তবে তালেবান সরকার এসব আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা নারী শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞাকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করছে।
সময়ের আলো/কেএইচ