রহমত-বরকতের মাস রমজান। এ মাসে প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়। হাজারো পাপী-তাপী আল্লাহর ক্ষমা লাভে ধন্য হয়, মুক্ত হয় জাহান্নামের ভয়াবহতা থেকে। হাদিসের ভাষ্যমতে ‘তারাই সফলকাম, যারা রমজান মাস পেয়ে অতীতের সব গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল।’ প্রকৃত মুমিন বান্দা এ মাসে কেবল রোজা রেখেই থেমে থাকেন না, তাদের সারা বেলা কাটে ইবাদত-বন্দেগিতে। ফরজ বিধান পালনের পাশাপাশি মগ্ন হয় নফল ইবাদতেও। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-ইস্তেগফার, তারাবিহ-তাহাজ্জুদ আর নফল নামাজে মগ্ন থাকেন রমজানের প্রতিটি প্রহর। আর তাদের জন্যই রয়েছে মহা সওয়াবের ঘোষণা। নবীজি (সা.) বলেন, ‘এ মাসে যে ব্যক্তি নফল আদায় করবে, সে অন্য মাসের ফরজ আদায়ের সমতুল্য সওয়াব পাবে।’ (ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭)
যে বান্দা ফরজ ইবাদত ঠিক রেখে সাধ্যমতো নফল ইবাদত আদায়ের চেষ্টা করে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে বাড়তি কিছু সুবিধা দুনিয়ায়ও পাবে, আখেরাতেও পাবে। দুনিয়ায় অফুরন্ত বরকত পাবে। আখেরাতে তার গুনাহগুলো সহজে মার্জনা করা হবে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করবে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম। বান্দা যেসব আমলের দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করে, তার মধ্যে ফরজ আমলগুলো আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আর নফল ইবাদত দ্বারা বান্দা আমার এত বেশি কাছের হয়ে যায় যে, তখন আমি তাকে ভালোবাসি। আমি তার কান হয়ে যাই, যা দ্বারা সে শোনে। আমি তার চোখ হয়ে যাই, যা দ্বারা সে দেখে। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে ধরে। আমি তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে হাঁটে। সে আমার কাছে কিছু চাইলে আমি তা দিই। সে আমার আশ্রয় প্রার্থনা করলে, আমি আশ্রয় দিই।’ (বুখারি : ৬৫০২)
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম তার ফরজ নামাজের হিসাব নেবেন। যদি ফরজ নামাজ পরিপূর্ণ ও ঠিক থাকে তা হলে সে সফলকাম হবে এবং মুক্তি পাবে। আর যদি ফরজ নামাজে কোনো ঘাটতি দেখা যায়, তখন ফেরেশতাদের বলা হবে, দেখো তো আমার বান্দার কোনো নফল নামাজ আছে কি না? তার নফল নামাজ থাকলে তা দিয়ে আমার বান্দার ফরজের এ ঘাটতি পূরণ করো। অতঃপর অন্যান্য আমলগুলোও (রোজা ও জাকাত) এভাবে গ্রহণ করা হবে। (তিরমিজি : ৪১৩; নাসাঈ : ৪৬৪)
বর্ণিত হাদিস থেকে বোঝা যায়, নফল ইবাদতÑ নামাজ, রোজা, দান-অনুদান; যা-ই হোক না কেন, পরকালের চূড়ান্ত মুক্তিতে এ নফল ইবাদতের বিকল্প নেই। তাই আসুন, রমজানের দিনগুলোয় আমরা নফল ইবাদতে মগ্ন হই। সময় কাটাই কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া, ইস্তেগফার ও নফল নামাজে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক