বিয়ের দিন অনেক নববধূই দীর্ঘ সময় ধরে ভারী মেকআপ ও সাজসজ্জা করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য নারীরা সাজসজ্জা করেন। এ অবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে নামাজ ছুটে যায়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, মেকআপ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অজু না করে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়া যাবে কি?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এর উত্তর হলো, না। শুধু মেকআপ বা সাজসজ্জা নষ্ট হবে বলে তায়াম্মুম করা বৈধ নয়। কারণ তায়াম্মুম হলো অজুর বিকল্প। এটি কেবল শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ পরিস্থিতিতেই অনুমোদিত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যদি পানি না পাওয়া যায়, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা যাবে (সুরা নিসা : ৪৩)। অর্থাৎ পানি থাকা সত্ত্বেও শুধু প্রসাধনী রক্ষা করার জন্য তায়াম্মুমের সুযোগ নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সমগ্র পৃথিবীকে আমার জন্য নামাজের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।’ ( বুখারি)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, তায়াম্মুম আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ছাড়, যা প্রয়োজনের সময়ই গ্রহণ করা যাবে।
ফকিহ ও মুফাসসিরদের ব্যাখ্যায়ও এই কথা পাওয়া যায়। ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেছেন, পানি ব্যবহার করলে যদি রোগ বেড়ে যাওয়ার, প্রাণহানি বা অঙ্গহানির আশঙ্কা থাকে, তখন তায়াম্মুম করা বৈধ। কিন্তু মেকআপ বা সাজসজ্জা নষ্ট হওয়ার ভয় এমন কোনো শরিয়তসম্মত ওজর নয়।
তাই নববধূ বা যে কেউ যদি শুধু মেকআপ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে, তাহলে তা শুদ্ধ হবে না। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে অজু করে নামাজ পড়তে হবে। আর যদি এভাবে নামাজ পড়ে থাকেন, তবে অজু করে সেই নামাজ কাজা পড়তে হবে।
ইসলাম সহজ ধর্ম, তবে সহজতা আল্লাহ নির্ধারিত সীমার মধ্যেই। তাই পার্থিব সৌন্দর্যের চেয়ে আল্লাহর বিধান পালন এবং ইবাদতের শুদ্ধতাকেই একজন মুসলিমের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সময়ের আলো/এসএকে