বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল ও দাড়ি পেকে যাওয়া স্বাভাবিক। অনেকেই বয়স কম দেখানোর জন্য পাকা চুল ও দাড়িতে কলপ ব্যবহার করেন। তবে ইসলামে এ বিষয়ে কিছু নির্দেশনা রয়েছে।
বয়সের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে কলপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মক্কা বিজয়ের দিন হজরত আবু বকর (রা.)-এর বৃদ্ধ পিতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে নিয়ে আসা হয়। তাঁর চুল ছিল সাদা। তখন নবীজি (সা.) বলেন, ‘এই চুলগুলো কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করে দাও। তবে কলপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো।’ (মুসলিম, হাদিস : ২১০২)
কলপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ হলো, এর মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করার সুযোগ তৈরি হয়। এতে এক ধরনের ধোঁকার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বয়স লুকিয়ে নিজেকে অপেক্ষাকৃত তরুণ হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলাম সমর্থন করে না।
তবে অল্প বয়সেই অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কারও চুল-দাড়ি পেকে গেলে তার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কলপ ব্যবহারের অবকাশের কথা আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
তাবেয়ি ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, ‘যখন আমাদের চেহারা সতেজ ছিল, তখন আমরা কলপ ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায় ভাঁজ পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হলো, তখন কলপ ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছি।’ (ফাতহুল বারি : ১০/৩৬৭)
অর্থাৎ বয়স ও পরিস্থিতির বিষয়টিও এখানে বিবেচ্য। তবে হাদিসে যেহেতু কলপ ব্যবহারের ব্যাপারে সরাসরি নিষেধ করা হয়েছে, তাই একেবারে কুচকুচে কলপ ব্যবহার না করাই সতর্কতার পথ। এর পরিবর্তে কালোর সঙ্গে সামান্য অন্য কোনো রং মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ইসলামের বিধান শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সততা, স্বচ্ছতা ও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা না করার শিক্ষাও জড়িত। তাই চুল-দাড়ি রাঙানোর ক্ষেত্রেও সৌন্দর্যের পাশাপাশি শরিয়তের নির্দেশনা মেনে চলা উচিত।
সময়ের আলো/এসএকে