সাম্য ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত

সোহাদা আক্তার

ইসলাম

ইসলাম সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবসমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, জুলুম-নির্যাতন এবং উৎপীড়নের মূলোৎপাটন করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার

2026-09-06T13:15:21+00:00
2026-09-06T13:15:21+00:00
 
  সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬,
১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
সাম্য ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত
সোহাদা আক্তার
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ইসলাম সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার এক পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবসমাজে হিংসা, বিদ্বেষ, অন্যায়, জুলুম-নির্যাতন এবং উৎপীড়নের মূলোৎপাটন করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই এই ধর্মের আগমন ঘটেছে। এর মূল ভিত্তি স্থাপন করেছেন স্বয়ং মহাবিশ্বের নিখুঁত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালা, যিনি পরম ন্যায়বিচারক। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহ ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। ফেরেশতা ও জ্ঞানীরাও সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮)। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ন্যায়পরায়ণতার বিষয়টি যে আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ ও বিধানের অংশ, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মানবজীবনে সাম্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ দেখা যায় নারী অধিকারের ক্ষেত্রে। ইসলামপূর্ব আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না, কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়াকে লজ্জাজনক মনে করা হতো। একমাত্র ইসলামই নারীর যথাযথ সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা সুনির্ধারিত করে দিয়েছে। অথচ তথাকথিত আধুনিক ও সভ্য রাষ্ট্রগুলো আজ নারীর স্বাধীনতার নামে তাদের প্রকৃত সম্মান ও ব্যক্তিত্ব বিলীন করার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি স্তরে নারীর জন্য সুনির্দিষ্ট অধিকার ও মর্যাদা ইসলাম নিশ্চিত করেছে। 

নারী ও পুরুষের সমান মর্যাদার বিষয়ে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘যে সৎকর্ম করে, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী, আর সে যদি মুমিন হয়, তবে আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত, তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেব’ (সুরা নাহল : ৯৭)। এই আয়াতের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহর দরবারে আমল ও তাকওয়ার বিচারে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য বা তারতম্য নেই।

সামাজিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে ইসলাম ধনী-গরিব এবং মনিব-দাসের সম্পর্কেও অনন্য মানবিক সাম্যের শিক্ষা দিয়েছে। সমাজের অবহেলিত ও অধীনস্থ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ইসলাম অত্যন্ত কঠোর ও সংবেদনশীল নির্দেশনা প্রদান করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কাউকে কারও ওপর রিজিকের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তা হলে যাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা কি তাদের অধীনস্থদের নিজেদের রিজিক থেকে এমনভাবে দেবে, যাতে তারা এ বিষয়ে সমান হয়ে যায়’ (সুরা নাহল : ৭১)। ইসলাম মনিব ও দাসকে একই প্লেটে আহার করার এবং সমমানের পোশাক পরিধান করার তাগিদ দিয়েছে, যা দুনিয়ার অন্য কোনো সভ্যতায় বিরল।


বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও ইসলামের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও নিরপেক্ষ। আইনের চোখে সবাই সমান— এই নীতির মূর্ত প্রতীক হলো ইসলামি বিচারব্যবস্থা। অপরাধী যেই হোক না কেন, তার প্রতি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও; যদিও তা তোমাদের নিজেদের অথবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে যায়। সে বিত্তবান হোক বা বিত্তহীন, আল্লাহ উভয়েরই অধিক কল্যাণকামী’ (সুরা নিসা : ১৩৫)। এই নির্দেশই প্রমাণ করে যে, বিচারের আসনে আত্মীয়প্রীতি বা ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

লেখক : শিক্ষিকা, আল হেরা মডেল একাডেমি, কিশোরগঞ্জ 

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   সাম্য  ন্যায়বিচার  দৃষ্টান্ত 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: