ইনজেকশন একটি বহুল প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি। দ্রুত কার্যকর হওয়াসহ অনেক কারণেই চিকিৎসকগণ এটি ব্যবহার করে থাকেন।
মৌলিকভাবে ইনজেকশন তিনটি পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয় ১. মাংসপেশিতে। ২. চামড়ার নিচে। ৩. রগের ভেতরে। মাংসপেশিতে ইনজেকশন ব্যবহার করার মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হবে না।
কারণ এটি রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য গ্রহণযোগ্য রাস্তা দিয়ে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে না। শাইখ ইউসুফ আল কারজাভি এ বিষয়ে সমকালীন ওলামায়ে কেরামের ইজমা (সর্বসম্মত মত) উল্লেখ করেছেন (ফিকহুস সিয়াম)।
চামড়ার নিচে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমেও মূলত রোজা ভঙ্গ হয় না। তাই রোজাদার ব্যক্তি রোজা অবস্থায় ইনসুলিন ব্যবহার করেত পারবেন। আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির সিদ্ধান্তও অনুরূপ। রগের ভেতরেও কিছু ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। ব্যবহৃত ওষুধটি রক্তের মাধ্যমে দেহে মিশে যায়। অসুস্থতার কারণে কোনো রোগী ইনজেকশন ব্যবহার করতে পারবেন।
রগ দিয়ে স্যালাইনও ব্যবহার করা হয়। যা মানবদেহে খাবারের ঘাটতি পূরণ করে। স্যালাইন ব্যবহার করলে মুখে খাবার গ্রহণ না করলেও চলে। যেহেতু রোজা রাখা হয় খাবার বর্জনের মাধ্যমে, তাই স্যালাইন ব্যবহার করলে রোজা ভাঙবে কি না বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। শাইখ ওয়াহবাহ জুহাইলিসহ অনেকের মতে এর মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
তবে শাইখ ইউসুফ আল কারজাভিসহ ভারতবর্ষের ওলামায়ে কেরামের মতে এর মাধ্যমে যদিও রোজা ভঙ্গ হবে না, তবে রমজানের দুর্বলতা দূর করার জন্য স্যালাইন ব্যবহার করা মাকরুহ। তাই রোজা অবস্থায় এর থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
সময়ের আলো/এআর