পৃথিবীতে যারা নেক আমল করবে, পরকালে তাদের বসবাসের জন্য থাকবে অনন্ত সুখের জান্নাত। সেই জান্নাতে প্রবেশের জন্যও রোজাদারের সম্মানে ব্যবস্থা করা হবে বিশেষ একটি প্রবেশপথ, যার নাম ‘রাইয়ান’।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান মাস আসে, তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়’ (বুখারি)।
রমজান এলে জান্নাতকে সাজানো হয়। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন রমজানের প্রথম দিন উপস্থিত হয়, জান্নাতের গাছের পাতা থেকে আকাশের নিচে বড় চক্ষুধারিণী হুরদের প্রতি হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলেন, হে প্রভু, আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন, যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে (আর রোজাদারদেরই করা হবে তাদের স্বামী)।’ (বাইহাকি, মেশকাত)
প্রকৃত রোজাদারদের জন্য থাকবে বিশেষ জান্নাত। যে জান্নাতে রোজাদারের প্রবেশের পর দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। রোজাদারের জন্য এটি বিশেষ সম্মানের বিষয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে রাইয়ান নামে একটি দরজা রয়েছে। কেয়ামতের দিন রোজাদারগণ এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
তারা ব্যতীত কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। ঘোষণা করা হবে রোজাদারগণ কোথায়? তখন তারা দণ্ডায়মান হবেন; তারা ব্যতীত এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। রোজাদাররা প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আর কেউ ওই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে না।’ (বুখারি : ১৭৬৩; মুসলিম : ১৯৪৭)
রমজানে জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয়, খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজা। হাদিস শরিফে উদ্ধৃত করা হয়েছে, রমজানে জান্নাতপ্রাপ্তি ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি প্রার্থনা করতে। এ সংক্রান্ত একটি চমৎকার দোয়াও রয়েছে।
দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিদাকা ওয়াল জান্নাতা ওয়া আউজুবিকা মিন গাদাবিকা ওয়ান নারি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার সন্তুষ্টি ও জান্নাতের আশা করছি এবং আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ কুরআন মাজিদে জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে ভয় দেখিয়েছেন এবং আমাদের বিভিন্ন ধরনের আজাবের খবর দিয়েছেন।
তিনি করুণাময় বলেই আমাদের বিভিন্ন ধরনের ভয় দেখিয়ে সতর্ক করেছেন; যাতে আমরা ভালোভাবে সাবধান ও ভীত হতে পারি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা স্বীয় রবের অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ ও অনুগত হও তোমাদের কাছে আজাব আসার আগে। এরপর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।’ (সূরা জুমার : ৫৪)
পার্থিব জীবনই হচ্ছে জান্নাত অর্জনের একমাত্র সময় ও সুযোগ। মৃত্যুর পর হাজার চেষ্টা ও প্রার্থনা করেও যা অর্জন করা সম্ভব হবে না। কেয়ামতের পর সব মানুষকে যখন হাশরের মাঠে সমবেত করা হবে তখন দুনিয়ার সুখ-দুঃখের কথা মানুষ ভুলে যাবে। জাহান্নামি ব্যক্তি দুনিয়ার সব শান্তি ও নেয়ামতের কথা ভুলে যাবে।
আর জান্নাতি ব্যক্তি দুনিয়ার সব কষ্টক্লেশের কথা ভুলে যাবে। দুনিয়ায় বসে জান্নাত অর্জনের এমন শ্রেষ্ঠ সময় হেলায় হারানো ঠিক হবে না। রমজান এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সময় ও সুযোগ আছে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে মুনাজাত করে জান্নাত অর্জনের। আল্লাহ সবাইকে রহমত বরকত মাগফেরাত ও নাজাতের সৌভাগ্য অর্জনের তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/এআর