অনর্থক কোনো কাজে মুসলমান জড়াতে পারে না। যে কথায় অন্য মানুষ কষ্ট পায়, যে কাজে অন্য মানুষের ক্ষতি হয়, তা থেকে বিরত থাকবে প্রকৃত মুসলমান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সেই প্রকৃত মুমিন’ (তিরমিজি : ২৬২৭)।
অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন ব্যক্তি মুসলমানদের মাঝে সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে।’ (তিরমিজি : ২৬২৮)।
বাকশক্তি আল্লাহর দেওয়া বিশেষ নেয়ামত। বাকশক্তির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা অন্যান্য সৃষ্টি থেকে মানবজাতিকে পার্থক্য করেছেন। দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের আসন। তাই আল্লাহ প্রদত্ত এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা বান্দার ওপর আবশ্যক। ভালো ও কল্যাণকর কথা বলা এবং অশ্লীল ও অযাচিত কথাবার্তা থেকে বিরত থাকাই হলো জবানের শুকরিয়া।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই সফলকাম ওইসব মুমিন, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়ী। যারা অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে’ (সুরা মুমিনুন : ১-৩)। যে কথা দুনিয়া বা আখেরাতের কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না, তা-ই অনর্থক কথা। অহেতুক কথা থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে হাদিসেও। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (তিরমিজি : ২৫০০)।
এসব হাদিসে রাসুল (সা.) প্রকৃত মুসলিম কে, তার পরিচয় বর্ণনা করেছেন। হাদিসের শেষাংশে তিনি বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান হলো ওই ব্যক্তি যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ থাকে। প্রথমে জিহ্বার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ হাতের দ্বারা কেবল উপস্থিত ব্যক্তিকেই কষ্ট দেওয়া যায় আর জিহ্বার মাধ্যমে অনুপস্থিত ব্যক্তিকেও কষ্ট দেওয়া সম্ভব।
তাই জিহ্বার কথা আগে উল্লেখ করেছেন। তা ছাড়া মানুষ একে অপরকে শারীরিক আঘাতের চেয়ে জিহ্বার দ্বারা বেশি আঘাত দিয়ে থাকে। হাদিস থেকে এটাই বোঝা যায় যে, প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি যিনি কখনো কাউকে কষ্ট দেন না। হোক তা হাত দিয়ে বা জিহ্বা দিয়ে।
এসব কারণে প্রত্যেকের কর্তব্য কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই রানের মাঝের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হব’ (বুখারি : ৬৪৭৪)।
দুনিয়ায় যত ফিতনা-ফাসাদ সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের মাধ্যমে। তাই এ দুটোকে যে সংযত করবে আল্লাহর রাসুল (সা.) তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদারি নেবেন। চিন্তা করুন, কেয়ামত দিবসের সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে যখন মানুষ নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়বে, ঠিক ওই মুহূর্তে আপনি নিশ্চিন্ত ও পেরেশানমুক্ত থাকবেন যদি এ দুটো অঙ্গের হেফাজত করতে পারেন।
এ থেকেই বোঝা যায়, এ দুটো অঙ্গকে সংযত রাখা কতটা জরুরি, যার মাধ্যমে মুক্তির ফয়সালা হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে অহেতুক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকার তওফিক দান করুন।
সময়ের আলো/জেডি