অগ্রাধিকার এখন আইনশৃঙ্খলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

মাদক ও চাঁদাবাজিকে প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা। এ

2026-03-03T04:55:22+00:00
2026-03-03T04:55:22+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
অগ্রাধিকার এখন আইনশৃঙ্খলায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
মাদক ও চাঁদাবাজিকে প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরের বন্ধে ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ মহাসড়কে ডাকাতি বন্ধেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ পরিকল্পনা। ঈদে জাল টাকার দৌরাত্ম্য রোধেও বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারে এ জন্য ছিনতাই রোধেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পদক্ষেপ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন টার্মিনাল, বাজার-ঘাট, ফুটপাথ, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বালুমহাল, নদীর ঘাটসহ বিভিন্ন কিছু দখলে মহোৎসব শুরু হয়। মূলত চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় দখলের প্রতিযোগিতা। এসব দখল আর পাল্টা দখলকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। আবার অধিকাংশ ঘটনাতেই বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নাম সামনে চলে আসে। যার ফলে অনেক নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হয় দলটির পক্ষ থেকে। এসব ঘটনা দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পর এসব কলঙ্ক থেকে বের হয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিএনপি।

সরকার গঠনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।

এরপর মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে পুলিশ প্রধান পর্যন্ত সবারই কণ্ঠে মাদক-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উচ্চারিত হতে শুরু করে। মন্ত্রী-এমপিরা নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে চালু করেছেন হটলাইন। বিশেষ নির্দেশনা দিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের। নিজের পদ-পদবী টিকিয়ে রাখতে নিজ নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত রাখতে তারা বিশেষ নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে জানা যায়। চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন নয়া পুলিশপ্রধান। স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ অ্যাকশন শুরুর কথা বলেছেন সাংবাদিকদের।

রাজধানীতে মাদকের হটস্পটগুলোতে হানা দিচ্ছে পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। একইভাবে কিশোর গ্যাংসহ যাদের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে তাদের বিরুদ্ধেও চলছে অভিযান। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধী গ্রেফতার হচ্ছে পুলিশের অভিযানে। মব প্রতিরোধেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

কিন্তু এত কঠোরতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটছে মব ও সহিংসতার ঘটনা। ছিনতাই, চাঁদাবাজির ঘটনা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। সেই সঙ্গে একাধিক ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে পুলিশি পাহারায় থাকা এক ব্যবসায়ীর বাসা লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় এই গুলি করার ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা গুলি ছুড়েছে।

এ ঘটনার পর চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। নাম দেওয়া হয় ‘এস ড্রাইভ’। ‘ঘোষণা দিয়ে’ নগর পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু করা অভিযান ‘এস ড্রাইভে’ ধরা পড়ে ৬৫ জন, যাদের ৪১ জনই ‘ছিনতাইকারী’। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীরা রয়ে গেছে অধরা। এ অভিযানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক এ অভিযানকে তাদের ‘কৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করেন।

ডিএনসির ৫ দিনের বিশেষ অভিযান : মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি) পাঁচ দিনের বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা এসব অভিযান পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ সার্কেলের উপ-পরিচালক রাজিউর রহমান জানান, পহেলা মার্চ থেকে পাঁচ মার্চ পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিশেষ অভিযান চলছে। অধিদফতরের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব বিশেষ অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

অ্যাকশন শুরু হবে শিগগির-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : এদিকে গত রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। অ্যাকশন শুরু হবে শিগগির।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদের যাতে শিগগির আইনের আওতায় আনা হয় সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত করব। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনোকিছু বাদ থাকবে না, এদেরকে আইনের আওতায় আনবই।

নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মাদক বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আইজিপি গতকাল সোমবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার সূত্রে জানা যায়, আইজিপি বৈঠকে মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশ প্রধান বলেছেন, ঈদে যানজট রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   আইনশৃঙ্খলা  সরকার  ঈদুল  ফিতর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: