একদিনের বিরতির পর শেয়ারবাজারে আবারও দরপতন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিনের লেনদেন শুরুতেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বিক্রির চাপ বাড়ায় শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণও বেড়েছে।
সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা পরে, বেলা ১১টায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭৫ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫৪৪৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এই সময় সূচকের পতনের হার ছিল ১.৫৪ শতাংশ।
যদিও লেনদেন শুরু হওয়ার ১৭ মিনিট পর সূচক সর্বোচ্চ ১০২ পয়েন্ট কমে ৫৪৪২ পয়েন্টে নেমেছিল। এ সময় পতনের হার ছিল ১.৬৬ শতাংশ।
পরবর্তীতে কিছু শেয়ারের ক্রয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচক কিছুটা বেড়ে সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে ৫৪৮২ পয়েন্টে উঠে আসে।
তবে যথেষ্ট ক্রেতা না থাকার কারণে বিক্রির চাপ সামলানো যায়নি, ফলে শেয়ার দর ও সূচক আবারও নিম্নমুখী হয়। এ ধারা বেলা ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
ইরানে আগ্রাসনের কারণে সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ভীত। দেশের একাধিক শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ দরপতন হচ্ছে।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বড় বাজারে সোমবারের বড় দরপতন এই ভয় আরও বাড়িয়েছে। মঙ্গলবারও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া এবং এ কারণে দাম বাড়ার ফলে এই দরপতন হচ্ছে।
সকাল ১১টায় ডিএসইতে ২৯০টি শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের দর কমে কেনাবেচা হয়। একই সময়ে ৫৮টি শেয়ারের দর বেড়েছে এবং ৩৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর অপরিবর্তিত ছিল।
দরপতন সব খাতেই দেখা গেছে। আগের মতোই ব্যাংক খাতের শেয়ার বেশি কেনাবেচা হয়েছে। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে ৩০৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যেখানে সোমবার প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ছিল ২১৫ কোটি টাকা।
ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে।
/ইউএমএইচ