পোশাক খাতে ২৫০০ কোটি টাকা দিলো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

আসন্ন ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা প্রদানে সংকট দেখা দিতে পারে, এ জন্য খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০০

2026-03-04T05:49:17+00:00
2026-03-04T05:49:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
পোশাক খাতে ২৫০০ কোটি টাকা দিলো সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
আসন্ন ঈদের আগে তৈরি পোশাক খাতে বেতন-ভাতা প্রদানে সংকট দেখা দিতে পারে, এ জন্য খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিল সরকার। 

মূলত রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর বকেয়া নগদ সহায়তার বিপরীতে এই অর্থ বরাদ্দ দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

পোশাক শিল্পের এই সংকটকালীন মুহূর্তে জরুরি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের জন্য বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ঈদের আগে পোশাক শিল্পের মালিকদের ওপর যখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা, বোনাস এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধের প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই অর্থ বরাদ্দ পাওয়া মালিকদের জন্য এক বড় সহায়ক হবে।

সংগঠনটি জানায়, বিজিএমইএর বর্তমান বোর্ড আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড়ের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে দফায় দফায় ফলপ্রসূ আলোচনা ও বৈঠক করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই তহবিল অনুমোদিত হলো।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় কিস্তির প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ দুই ধাপে সর্বমোট ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া অর্থ প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিজ নিজ লিয়েন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে শিল্প মালিকদের ওপর শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব বোনাস এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এমন সময়ে নগদ সহায়তার অর্থ ছাড় শিল্পের জন্য বড় স্বস্তি এনে দেবে।

বিজিএমইএ জানায়, আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ ছাড়ের দাবিতে সংগঠনটির বর্তমান বোর্ড সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দ্রুততম সময়ে এ তহবিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অর্থ ছাড় রফতানি খাতে তারল্য সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



বিশেষ ঋণসুবিধা চালু

এদিকে সচল রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈশ্বিক ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঋণের অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে এই মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া যাবে। তবে ঋণের পরিমাণ কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসে প্রদত্ত গড় বেতন-ভাতার বেশি হবে না।

সার্কুলারে জানানো হয়েছে, যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রফতানি করে এবং যারা ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে, তারাই কেবল ‘সচল রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবে। 

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠন যেমন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তফসিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীর নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার অর্থ জমা দেবে। এই ঋণ তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ (কিস্তি স্থগিতের সময়) সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সমান মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। নিয়মিত সুদ ছাড়া এই ঋণের ওপর অতিরিক্ত কোনো ফি, চার্জ বা মুনাফা আরোপ করা যাবে না।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রফতানিমুখী শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   পোশাক  খাত  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: