বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (৪ মার্চ) এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত ২০০ কোটির বেশি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভাতা আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বাড়তি ১০ শতাংশ ভাতা দিতে সরকারের অতিরিক্ত ২০০ কোটির বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বাজেট ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় প্রস্তাবটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে তিনটি শিক্ষা অধিদফতরের অধীন প্রায় ৩২ হাজার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সাড়ে পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার সরকারি অংশ হিসেবে প্রতি মাসে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চেক ছাড়ের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিল তৈরি করে ব্যাংকে পাঠায়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে বেতন পাচ্ছেন। এখনো কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা এই ব্যবস্থার আওতায় আসেননি।
উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা গত বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী, একই বছরের জুনে ঈদুল আজহায় ৫০ শতাংশ হারে ভাতা প্রদান করা হয়।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। এতে স্কুলের ৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৪ জনের জন্য ৭৪২ কোটি ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ২১৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং কলেজের ৮৭ হাজার ৭৯৫ জনের জন্য ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬ টাকা ৬ পয়সা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩২ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার ৩০৫ টাকা ৬৮ পয়সা ছাড়ের অনুমোদন হয়েছে। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরের উৎসব ভাতার অর্থ এখনো ছাড় হয়নি।
/ইউএমএইচ