দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ এবং হত্যাসহ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফিয়াজ বলেন, আমরা আজ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর এখানে দাঁড়িয়ে থেকেও আমাদের দেশে নারীর নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। এরপর যে বিচার কার্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা সে বিচার কার্যেরও আমরা কোন সঠিক পদ্ধতি দেখতে পাই না। বাংলাদেশে যখনই এভাবে ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে ততবারই এভাবে আমাদেরকে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। এভাবে রাস্তায় দাঁড়ানোর পর আমরা বারবার চাই যে ধর্ষকের ফাঁসি হোক কিংবা ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত হোক। কিন্তু তারপর আমরা দেখতে পাই যে এইসব ধর্ষক যারা থাকে তারা কিছুদিন পরেই জামিনে ছাড়া পেয়ে যায় কিংবা তাদের এমন কোন শাস্তি হয় না, কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আমরা এটাও দেখেছি যে কোর্টের মধ্যে বিচারকের উপস্থিত থাকা অবস্থায় ধর্ষকের সাথে যে ভিক্টিম থাকে তার বিয়ে করিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
আমরা আশা করব যে আমাদের দেশের নবনির্বাচিত সরকার যারা রয়েছেন তারা এ বিষয়টাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে দেখবেন এবং একই সাথে আমরা চাই যে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা হোক।
উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সিয়াম শিকদার বলেন, আমরা সবসময় যখন ধর্ষণ নিয়ে কথা বলি প্রথমেই পুরুষদের পক্ষ থেকে যে প্রশ্নটি শুনতে পাই তা হচ্ছে তার পোশাক ঠিক ছিল কিনা। যদি নারীর পোশাকই একমাত্র সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে আছিয়ার কি পোশাকের সমস্যা ছিল? মুনিয়ার কি পোশাকের সমস্যা ছিল? এই দুই তিন দিন আগে সাত বছর বা আট বছরের যে মেয়েটাকে রিসোর্টে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হলো তার কি পোশাকের সমস্যা ছিল?
সমস্যাটা তাহলে কোথায়? আমাদের মনস্তত্বে। আমরা যদি নিজেদেরকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না করতে পারি, তাহলে আমাদের এই মনস্তত্ব পরিবর্তন হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরো বলেন, আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নারীদের নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ করে আমাদের নিজেদের মনস্তত্বকে প্রশ্ন করা শুরু করতে না পারবো ততদিন পর্যন্ত ধর্ষণ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে বলে আমি একজন পুরুষ হিসেবে মনে করি না।
এএডি/