১৯৭১ সালের ৪ মার্চ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে ডাকা হয় সর্বাত্মক হরতাল। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পালিত এই হরতালে দেশজুড়ে জনজীবন কার্যত থমকে দাঁড়ায়। হরতাল চলাকালে ছাত্র, জনতা, শ্রমিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়।
মিছিলগুলোতে উচ্চারিত হয় তীব্র প্রতিবাদ ও গণজাগরণের স্লোগান। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বেসামরিক শাসনব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। জনজীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে। সর্বত্র অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
সেদিন খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ছয়জন শহিদ হন। চট্টগ্রামেও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এ সময় দেশের চলমান আন্দোলনের প্রতি বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ অব্যাহত রাখে।
বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের একদল শিল্পী যৌথ বিবৃতিতে জানায়, দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তারা বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন লায়লা আনজুমান্দ বানু, আফসারী খানম, আতিকুল ইসলাম, ফেরদৌসী রহমান, মুস্তফা জামান আব্বাসী, গোলাম মুস্তফা, হাসান ইমাম, আলতাফ মাহমুদ, ওয়াহিদুল হক ও এ এম হামিদসহ আরও অনেকে।
এ সময় সাংবাদিক ইউনিয়ন এক জরুরি সভা আহ্বান করে। সভায় নেতারা জনগণের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং সামরিক শাসন প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি ৬ মার্চ সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে মিছিল কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই দিনে মহিলা পরিষদের নেত্রী কবি সুফিয়া কামাল ও মালেকা বেগম এক যৌথ বিবৃতিতে ৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ জন শিক্ষক পৃথক বিবৃতিতে একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকের গণবিরোধী ভূমিকার তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অগ্নিঝরা মার্চের সেই দিনটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রামে এক উত্তাল ও ঐতিহাসিক অধ্যায়, যা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আরও বিস্তৃত রূপ নেয়।
সময়ের আলো/আআ