ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন উষ্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্কে হঠাৎই টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সরাসরি বিপদের মুখে। উপসাগরীয় অঞ্চল গুলেতে ঝুঁকির মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খালাফ আল-হাবতুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করে লিখেছেন, ‘আমাদের অঞ্চলকে যুদ্ধে টেনে আনার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?’
পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপসাগরীয় দেশগুলোকে এমন এক বিপদের কেন্দ্রে ঠেলে দিয়েছেন, যা তারা নিজেরা বেছে নেয়নি।’
এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বন্দর ও বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই হামলার জেরে জ্বালানি সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে চলমান অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলোর অর্থনৈতিক সম্পর্ককে হুমকির মুখে ফেলেছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ের যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে এই তিন দেশের সম্পর্ক ছিল অনেক ঘনিষ্ঠ।
দুবাইয়ের ধনকুবের ব্যবসায়ী খালাফ আল-হাবতুরের এই প্রকাশ্য সমালোচনা আমিরাতের অভিজাত মহলে বিরল এক ঘটনা। সাধারণত তারা বেশ সতর্কভাবেই জনসমক্ষে কথা বলেন। তবে আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতারের সরকার সরাসরি ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও বেসামরিক জীবনের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিল বড় বড় কোম্পানি অধিগ্রহণেও বড় ভূমিকা রাখছিল।
যেমন—সৌদি অর্থায়নে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে ভিডিও গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইলেকট্রনিক আর্টস’ কেনার চেষ্টা, কিংবা আবু ধাবির একটি তহবিলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন কোম্পানি ‘ক্লিয়ার চ্যানেল আউটডোর হোল্ডিংস’ অধিগ্রহণের উদ্যোগ। এ ছাড়া গত বছরের শেষ দিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি অধিগ্রহণের চেষ্টাতেও এই তিন দেশের তহবিলগুলো সমর্থন দিয়েছিল।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকস বৃহস্পতিবার তাদের গ্রাহকদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যদি সংঘাত কয়েক সপ্তাহও স্থায়ী হয়, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তারা ১ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেবে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচও