নাগরিক সম্পৃক্ততা ও সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণের সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ডিএসসিসিতে পালিত হয়েছে ‘পাবলিক হেয়ারিং ডে’।
এ অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক সাধারণ নাগরিক তাদের এলাকার নানা সমস্যা ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালামের কাছে তুলে ধরেন। সমস্যাসমূহের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি, অবৈধ ফুটপাত দখল, সড়ক ও ফুটপাত সংস্কার, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল।
শনিবার (৭ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মিলনায়তনে সকাল ১০টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ‘পাবলিক হেয়ারিং ডে’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি শুরু হয় দুপুর ২টার পর।
এ সময় নগরীর নানান সমস্যা তুলে ধরেন নাগরিকরা। নাগরিকদের সমস্যা জানার পর প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যাখা তলব করেন এবং সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। ফলে উপস্থিত নাগরিকরা তাদের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যেই ডিএসসিসি প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হেয়ারিং ডে’ চালু করেছে, যাতে নাগরিকরা সরাসরি এসে তাদের কথা বলতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে।
নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকরা যদি ৫০ শতাংশ সহযোগিতা করেন, বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশন পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফুলের মতো ঢাকা শহর উপহারের প্রত্যাশা নিয়ে প্রশাসক উপস্থিত নাগরিকদের ফুল দিয়ে ‘পাবলিক হেয়ারিং ডে’ এর শুভেচ্ছা জানান।
উপস্থিত নাগরিকদের মতে এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসী তাদের সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে। তারা আশা করেন, এর ফলে প্রশাসনের জবাবদিহিতা বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নগর সমস্যার দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির সব বিভাগীয় প্রধান ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এআর