নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজধানীর মহাখালীর শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মন্দির ও শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু করেছে বিএনপি। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে মন্দির দুইটির সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
এ সময় তিনি বলেন, যার যার ধর্ম পালনে বিএনপি সহযোগিতা করবে।
সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের জায়গায় ‘মৌলবাদী’ কেউ বিজয়ী হলে কী অবস্থা হত, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক অনুষ্ঠানে এ নিয়ে ভাবতে বললেন উত্তর সিটির প্রশাসক।
ঢাকার এ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে খুব কম ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান।
জামায়াতে ইসলামের আমির শফিকুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকা-১৫ আসনে হেরেছেন সদ্য উত্তর সিটি করপোরেশন-ডিএনসিসির প্রশাসকের দায়িত্ব পাওয়া শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, সেই অঙ্গীকারকে যতক্ষণ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না করতে পারেন ততক্ষণ পর্যন্ত উনি এই বিষয় নিয়ে খুব বিচলিত থাকেন। ওনার প্রতিশ্রুত এই মন্দিরের সংস্কার কাজ উদ্বোধনের জন্য আজকে আমরা এসেছি, আজ থেকেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। নৈতিক জায়গা থেকে, আমাদের কাছে কোনো ধর্ম-বর্ণ বিন্যাসে কোনো ধরনের, আমাদের কোনো পার্থক্য নেই। যার যার ধর্ম সে সে সে পালন করবেন। আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এই বাংলাদেশ যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। নির্ভয়ে আপনাদের ধর্ম আপনারা পালন করে যাবেন। যে কোনো বিষয়ে জানাবেন, আমাদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দরাও যদি কোনো কারণে আপনাদের প্রতি কোনো অন্যায় করে কিংবা বহিরাগত কিংবা আশেপাশের কেউ করে, সেই বিষয়টুকু আমাদেরকে জানাবেন। অনেকে বলতো যে, বিএনপি এই করবে, ওই করবে। এখন আপনারা কি স্বস্তিতে আছেন না? উগ্রবাদী, মৌলবাদী যারা আছে, তারা যদি আজকে কোনো কারণে এখানে যদি এমপি হত, কিংবা প্রতিনিধি থাকতো তাহলে অবস্থাটা কী হতো আপনাদের?
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, আমরা সব ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ভালো করে বলতে পারি, বিএনপি কিন্তু কখনো আপনাদেরকে সংখ্যালঘুও বলে নাই, আপনাদের উপর কোনো অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন হোক এটা বিএনপি কখনোই অ্যালাউ করে নাই, সাহায্য করে নাই, কাউকে উৎসাহিতও করে নাই। কারণ আমরা জানি আমরা চাই এই দেশটা আমার সবার।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটা প্ল্যান আছে, তিনি যে সমস্ত কাজ করতে চান, যদি সেগুলো আল্লাহর রহমতে তিনি করতে পারেন, তাহলে দেখবেন সবকিছুর চেহারা পাল্টে গেছে। কিছু কিছু আছে লোক এখন থেকে খোঁচাচ্ছে, এই কীভাবে আবার দেশটাকে অস্থির করা যায়। তাদের পাল্লায় কি পা দেওয়া যাবে? পা দেওয়া যাবে না। মাত্র সরকার আসছে, দুই-তিন বছর সময় দেন। তারপর যদি মানুষের জন্য বিএনপি কাজ না করতে পারে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি কাজ না করতে পারে, তারপর আপনারা সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ফরহাদ ডালিম ডোনার ও বিজন কান্তি সরকার, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালক তপন মজুমদার, গুলশান বনানী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক।
সময়ের আলো/এআর