ঈদযাত্রায় ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

ঈদযাত্রার আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভাড়া নৈরাজ্য উসকে দেবে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন

2026-03-11T01:57:38+00:00
2026-03-11T01:57:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
ঈদযাত্রায় ঢাকা ছাড়বে দেড় কোটি মানুষ
তেল সংকটে গাড়ি ভাড়ায় নৈরাজ্য বাড়ার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৭ এএম   (ভিজিট : ৮৯)
ঘরমুখী মানুষের যাত্রা। ফাইল ছবি
ঈদযাত্রার আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভাড়া নৈরাজ্য উসকে দেবে বলে মনে করছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। 

তেলের সরবরাহ ঘাটতি এবং দাম বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে ইতিমধ্যে অনেক পরিবহন মালিক অগ্রিম টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কোথাও কোথাও বাড়তি ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ বলছে, আসন্ন ঈদে ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে প্রায় দেড় কোটি মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামের বাড়ি যাবে। এ ছাড়া দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় আরও ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষের যাতায়াত হবে। 

বিভিন্ন শ্রেণির লঞ্চে ৪০ লাখ ট্রিপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩০ লাখ ট্রিপ, হিউম্যান হলারে ৮০ লাখ ট্রিপ, কার-মাইক্রোবাসে ৬০ হাজার ট্রিপ, দূরপাল্লার বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ ট্রিপ, ঢাকার সিটিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ ও রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে ২ কোটি ৫০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে। 

ঈদ সামনে রেখে বরাবরের মতো গত ৩ মার্চ থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছিলেন মালিকরা। তবে মাত্র দুদিনের মাথায় জ্বালানি তেল নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতায় থমকে যায় এই কার্যক্রম। লোকসানের আশঙ্কায় অনেক পরিবহন মালিক অগ্রিম টিকেট বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।  

তাদের দাবি, সংকট বা হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে অগ্রিম টিকেট বিক্রি করলে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে হবে। তাই বিকল্প হিসেবে তারা যাত্রার আগমুহূর্তে সরাসরি টিকেট বিক্রির পরিকল্পনা করছেন। তবে সাধারণ যাত্রীরা পরিবহন মালিকদের এই যুক্তিকে দেখছেন ভিন্ন চোখে। 

তাদের মতে, এটি মূলত বাড়তি ভাড়া আদায়ের একটি কৌশলী ফন্দি। 

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলছে, ঈদ এলেই ৩৫০ টাকার ভাড়া অনায়াসেই ৫০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। এবার তেল সংকট ও ঈদ এই দ্বিমুখী অজুহাতে ভাড়ার নৈরাজ্য আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে। ফলে বরাবরের মতোই অসহায় সাধারণ যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনে যাতায়াত করতে হবে।

গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। 

নিয়ম অনুযায়ী, একটি দূরপাল্লার বাস সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার এবং লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। 

তবে বাস মালিকদের দাবি, বাস্তবে ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই পরিমাণ তেল মিলছে না। অনেক পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়েও তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বাড়তি দামে ড্রামে করে ডিজেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, পরিবহনে জ্বালানি তেল সরবরাহের নির্ধারিত সিলিং পদ্ধতি ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে, ভাড়া নৈরাজ্য উসকে দেবে, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা আরও একধাপ বেড়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত ঈদের দিন পর্যন্ত পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি জানাই।

দূরপাল্লার আন্তঃজেলা পরিবহনের একজন মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন। ২০টি বাসের এই মালিক বলেন, শুরুতে নির্ধারিত দামেই অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছিলাম। কিন্তু তেলের তীব্র সংকট সব ওলটপালট করে দিয়েছে। প্রতিদিন একটি বাসের জন্য যেখানে ১০০ লিটার তেল লাগত, সেখানে গত দুদিনে পেয়েছি মাত্র ৩০ ও ২০ লিটার। রোববার রাতে কোনো তেলই পাইনি। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে ১২৫ টাকা লিটার দরে ড্রামের তেল কিনে আজকের (গত সোমবার) ট্রিপগুলো সামাল দিতে হচ্ছে। এভাবে লোকসান দিয়ে বাস চালানো অসম্ভব। সরকার রেশনিংয়ের কথা বললেও পাম্পে তেল মিলছে না। এমন অনিশ্চয়তায় ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করার সাহস পাচ্ছি না। এর মধ্যে যদি তেলের দাম বেড়ে যায়, সেই লোকসান কে টানবে?

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ চলমান সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, জ্বালানি তেলের এই সংকট আমরা বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছি। তেল যে একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না তা নয়, তবে আমাদের নিয়মিত সাপোর্ট দেওয়া তিন-চারটি ফিলিং স্টেশনে লোক দাঁড় করিয়ে রেখে অনেক কষ্টে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এটি আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে। 

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই সংকট যদি আরও দীর্ঘ হয় এবং সরকার যদি দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারে, তবে ঈদের সময় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছি। এর মধ্যে যদি তেলের দাম বেড়েও যায়, তবে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই এবং আমরা তা করবও না। তবে এমনটা হলে আমাদের বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েই বাস চালাতে হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিলেও পাম্পগুলোতে উপচেপড়া ভিড়। লাইন ধরে তেল সংগ্রহ করতে কর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ঈদযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কারণ তেলের জন্য যদি গাড়ি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে, তা হলে টার্মিনালে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

জ্বালানি মজুদের বর্তমান চিত্র :

ডিজেল : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মোট মজুদসক্ষমতা রয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। গত ৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া হিসাব মতে, বর্তমানে মজুদ আছে ১ লাখ ২০ হাজার ২৩৭ টন ডিজেল। দেশে দৈনিক গড়ে ৯ হাজার ২২ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সে হিসাবে বর্তমান মজুদ দিয়ে আগামী ১৩ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। তবে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিপিসি ইতিবাচক খবরও দিয়েছে। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল নিয়ে পাঁচটি জাহাজের দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই নতুন সরবরাহ যুক্ত হলে মজুদের পরিমাণ বাড়বে এবং তা দিয়ে পরবর্তী আরও প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   ঈদযাত্রা  জ্বালানি  তেল  নৈরাজ্য 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: