ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে কর্তৃত্ববাদী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয় বিএনপি। সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে দলটি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হয়। এরপর দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এই সরকারের অধীনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় বিএনপি। নির্বাচনকে ঘিরে ষড়যন্ত্র আর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর মধ্যে মতপার্থক্য, আন্দোলন-সমাবেশ এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্কের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নির্বাচনি পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতেও সহায়ক হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত ছিল। নির্বাচন পদ্ধতি, সরকারের ভূমিকা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কোথাও কোথাও আন্দোলন, সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, নির্বাচনকে ঘিরে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। সংবিধানের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি সংবিধানসম্মত পথ অনুসরণ করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় এবং তারা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নির্বাচন কমিশনও প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ফলে বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এবারের নির্বাচন নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।
তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকে সংকট মোকাবিলা করার যে প্রচেষ্টা দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধানের নেপথ্য ভূমিকা সেই প্রক্রিয়াকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
সময়ের আলো/আআ