বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের বিরুদ্ধে নতুন করে বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তদন্তের আওতায় ভারত ও চীনের পাশাপাশি এবার যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের নামও।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের কথিত ‘অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা’ খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এই তদন্তে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের নামও তালিকায় রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার কানাডা এই তদন্তের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এই তদন্ত শুরু হয়েছে এমন এক সময়, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে।
আরও পড়ুন
আদালত রায়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট সরাসরি শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। এ ধরনের ক্ষমতা মূলত কংগ্রেসের অধীন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, এমন অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী শুল্ক জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা। এর আগেই নতুন তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনে নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
গত বছর এপ্রিলেও ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য সমঝোতা হয়, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানো এবং বাণিজ্য শর্ত নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আলোচনা পরবর্তীতে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সম্ভাব্য বৈঠকের পথ প্রস্তুত করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই তদন্তের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মূলত বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি অংশীদার দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছে।
এএডি/