নতুন সংসদকে জুলাই শহিদদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে : জোনায়েদ সাকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণে সারা বাংলাদেশের মানুষ ও এই সংসদের সবাই আবদ্ধ। এই

2026-03-12T21:42:11+00:00
2026-03-12T22:50:47+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
জাতীয়
নতুন সংসদকে জুলাই শহিদদের রক্তের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে : জোনায়েদ সাকি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪২ পিএম  আপডেট: ১২.০৩.২০২৬ ১০:৫০ পিএম  (ভিজিট : ১০২)
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। ছবি : সংগৃহীত
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণে সারা বাংলাদেশের মানুষ ও এই সংসদের সবাই আবদ্ধ। এই সংসদকে জুলাই শহিদদের রক্তের ঋণ ধারণ করে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিরোধী নেতা ও স্পিকার- আমরা সবাই অগ্রসর হব। তখনই জুলাই শহীদদের প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পাবে। একই সঙ্গে আহত যোদ্ধাদের এবং সকল লড়াকু মানুষকে যথার্থভাবে ধারণ করা সম্ভব হবে। 

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, জুলাইয়ের সময় যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে এবং তার আগে ও পরে ওসমান হাদিসহ প্রত্যেক হত্যাকাণ্ডের বিচার এদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু ন্যায়বিচার নয়,একটি রাষ্ট্রে যদি অধিকাংশ খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সত্যিকার অর্থে জনগণের মধ্যে ঐক্য তৈরি হয় না, সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। সেই কারণে একদিকে ন্যায়বিচার, অন্যদিকে খেটে-খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা-এই দুইয়ের মধ্য দিয়ে জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে দেশে জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়, যে দেশে ঐক্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্র পরিচালিত হয়, সেই জনগোষ্ঠীকে কেউ পরাজিত করতে পারে না। তার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয়। এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫ তারিখের পরে ৭ই আগস্ট পরিষ্কার করে একটি দিশা হাজির করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এটা কেবল একটি বক্তব্য নয়; এটা বাংলাদেশের সামনে একটি রাজনৈতিক দিশা। আজকের বিশ্ববাস্তবতায় আমরা কোথায় যাব, তা এই দিশার মধ্য দিয়েই ঠিক করতে হবে।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই পরম করুণাময়ের কাছে শোকর গুজার করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে এবং আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে পেরেছি। বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নতুন ধাপে শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য দীর্ঘ যে লড়াই-১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামে এ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যারা স্বপ্ন দেখেছে, যারা জীবন দিয়েছে-তারা এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই জীবন দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলেও যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি এ দেশের নাগরিকদের জন্য তৈরি হয়েছিল, তা আকাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি বরং শেষ পর্যন্ত আমরা দেখেছি মানুষের ভোটের অধিকার, এমনকি জীবনের বেঁচে থাকার অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ রাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল, সেটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছি। এবং কেবল রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই নয়—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাঠামো কী হবে, সেটা কীভাবে গড়ে উঠতে পারে- সেই বিষয়েও আমরা আমাদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে, বিশেষভাবে গত সতেরো বছর ধরে, ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আমাদের বক্তব্য, কর্মসূচি ও দিশা হাজির করার চেষ্টা করেছি।

এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার করে এখানে বলা দরকার-জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সতেরো বছর ধরে যে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এখানকার রাজনৈতিক দলগুলো, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারীসহ নানা ধরনের সংগঠন। এবং সে সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আঠারো সালের মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির পরে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিএনপির নেতৃত্বে এদেশের ৩৯টি রাজনৈতিক দল-গণসংহতি আন্দোলনসহ গণতন্ত্র মঞ্চ, আমাদের জোট, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং আরও বিভিন্ন দল-৩১ দফা সুস্পষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার, মেরামত ও রূপান্তরের কর্মসূচিকে সামনে রেখে ১ দফার ভিত্তিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং শাসনব্যবস্থার বদলের লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম সূচনা করেছে। তিনি বলেন, এ লড়াইয়ে বহু রাজনৈতিক কর্মী তাদের জীবন দিয়েছেন। 

তিনি বলেন, বহু রাজনৈতিক কর্মী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং গুম, খুন, হত্যা, ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। বহু রাজনৈতিক কর্মী, বিশেষভাবে বিরোধীদলের কর্মীরা-এখানে যারা উপস্থিত আছেন তাদের প্রায় সকলেই এবং বিশেষভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসীম নির্যাতন সহ্য করেছেন। কত কর্মীকে ধানক্ষেতে ঘুমাতে হয়েছে, কবরস্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। আমার এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬, বাঞ্ছারামপুরে বহু নেতাকর্মীর কাছ থেকে তাদের এসব অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। সারাদেশের চিত্রও একই।

তিনি আরও বলেন, এই প্রেক্ষাপটের ওপর দাঁড়িয়েই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এসেছে। এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের, জনতার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে-আমরা বলতে চাই এটি ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, দেশের নারী-পুরুষ সকলের আন্দোলন। এখানে প্রাণ দিয়েছেন ছাত্ররা, এখানে প্রাণ দিয়েছেন শিশুরা, এখানে প্রাণ দিয়েছেন নারীরা। এখানে প্রাণ দিয়েছেন বাঙালি, চাকমা, মারমা; হিন্দু, মুসলমান-বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বর্ণ ও পরিচয়ের মানুষ। কাজেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান সকল মানুষের সংগ্রাম হয়ে উঠেছিল।

জোনায়েদ সাকি বলেন, যে শহিদেরা-আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম, রিয়া গোপ কিংবা আমাদের ছাত্র সংগঠনের জুলফিকার শাকিলসহ অসংখ্য তরুণ প্রাণ দিয়েছেন-তাদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। আমার নিজের নির্বাচনী এলাকা বাঞ্ছারামপুরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা নয়ন মিয়া পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। আশিক, তুহিন, ইসমাইল, ইমরান—বাঞ্ছারামপুরের চার সন্তান প্রাণ দিয়েছেন। এভাবে সারা বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই আন্দোলনে যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে, তা হলো-বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ হবে এবং এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে।

/এমএইচআর 


  বিষয়:   জোনায়েদ সাকি  নতুন সংসদ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: