ঘরমুখো মানুষের চাপ শুরু

শাকিল আহমেদ ও মোশফিকুর রহমান ইমন

জাতীয়

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। গত শুক্রবার থেকেই ঈদযাত্রা শুরু হলেও আজ থেকে ঘরমুখো মানুষের

2026-03-16T05:42:22+00:00
2026-03-16T05:42:22+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ঘরমুখো মানুষের চাপ শুরু
শাকিল আহমেদ ও মোশফিকুর রহমান ইমন
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ এএম 
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। রোববার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে তোলা। ছবি : আবদুল হালিম
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। গত শুক্রবার থেকেই ঈদযাত্রা শুরু হলেও আজ থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। আগামীকাল থেকে সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকেই সোমবার অফিস শেষে সরাসরি বাস টার্মিনালে যাবেন। আগামী বুধবার থেকে কলকারখানা ও পোশাক কারখানায় ছুটি শুরু হলে ঈদযাত্রায় পূর্ণ মাত্রার ঢল নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রা শুরু হলেও এখনও তেমন ভিড় ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই চলছে বাস। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকলেও ১৭ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত যাত্রীচাপ অনেক বাড়বে বলে জানান তারা। ইতিমধ্যে এ তিন দিনের অগ্রিম টিকেট প্রায় বিক্রি হয়ে গেছে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক পরিবহন মালিক ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছেন।

গাবতলী শাকুরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. শিপন জানান, গত ১২ মার্চ থেকে ঈদের বিশেষ শিডিউল চালু হয়েছে। এখনও যাত্রীর চাপ খুব বেশি নেই। কিছু বাস আসন খালি রেখেই ঢাকা ছেড়েছে। তবে সোমবার অফিস শেষে সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, ১৯ মার্চ থেকে কলকারখানা ও পোশাক কারখানা বন্ধ হলে ভিড় আরও বাড়বে। তবে তেলের সংকটের কারণে এবার পরিবহনের ট্রিপ কমানো হয়েছে। ফলে শেষ দিকে যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে।

ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার-নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। ঢাকা-বরিশাল রুটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৭৫০ টাকা। কল্যাণপুর শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. রেজাউল করিম বলেন, এখনও কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই এবং যাত্রীরা সহজেই টিকেট পাচ্ছেন। তবে সোমবার থেকে চাপ বাড়বে। অনেকেই আগেভাগে পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন, এখন ঢাকায় মূলত চাকরিজীবীরাই রয়েছেন।

নৌপথেও বাড়ছে যাত্রী : ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ধীরে ধীরে বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। কয়েক দিন আগের তুলনায় এখন ঘাটে মানুষের আনাগোনা কিছুটা বাড়লেও অতীতের মতো এখনও উপচেপড়া ভিড় নেই। 

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস প্রতিদিন গড়ে ৬০-৬৫টি লঞ্চ চলাচল করলেও ঈদ ঘনিয়ে আসায় যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল পন্টুনগুলোতে আগের চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে, যা লঞ্চমালিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।

সুন্দরবন-১২ লঞ্চের কেরানি মোহাম্মদ শিপন বলেন, কয়েক দিন আগেও ডেকে যাত্রী খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন ধীরে ধীরে মানুষ আসা শুরু করেছে। পুরো ডেক ভরে না গেলেও আগের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। বাসে দ্রুত যাওয়া গেলেও ঈদের ভিড় ও যানজট এড়াতে অনেকে আবার লঞ্চে ফিরছেন।

মিতালী-৪ লঞ্চের কেবিন ইনচার্জ রাসেল ইসলাম বলেন, আগে কেবিন বুকিংয়ের জন্য তেমন ফোন আসত না। এখন মানুষ খোঁজখবর নিচ্ছে এবং বুকিংও বাড়ছে। ঈদের দুই-তিন দিন আগে যাত্রীচাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি।

ভোলাগামী সরকারি বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী হাসিব বলেন, সময় বাঁচাতে অনেকেই বাসে যান তবে লঞ্চ ভ্রমণের আলাদা আনন্দ আছে। এখন ভিড় কম থাকায় আরামেই যাওয়া যাচ্ছে। 

চাঁদপুরগামী যাত্রী শরীফা বেগম বলেন, সদরঘাটে আগের মতো হাঁকডাক না থাকলেও গত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রী কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, যাত্রীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রয়োজনে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর প্রস্তুতি রয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণে আমাদের টিম কাজ করছে।

ঈদে বাড়ছে ট্রেন, যোগ হচ্ছে অতিরিক্ত কোচ : ঈদ উপলক্ষে রেলপথেও যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। রোববার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে ট্রেনের কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময়েই ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে এবং কোনো হয়রানির শিকার হতে হয়নি। নিরাপত্তাব্যবস্থাও আগের তুলনায় ভালো। স্কাউট সদস্যরা বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে ও মালামাল বহনে সহায়তা করছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এবারও শতভাগ টিকেট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন দুই শিফটে টিকেট বিক্রি হচ্ছে- সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ মার্চ ২৬ মার্চের, ১৭ মার্চ ২৭ মার্চের, ১৮ মার্চ ২৮ মার্চের এবং ১৯ মার্চ ২৯ মার্চের ট্রেনের টিকেট বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রী এনআইডি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ চারটি টিকেট কিনতে পারবেন। তবে অগ্রিম টিকেট ফেরত বা রিফান্ড করা যাবে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ১৬ মার্চ থেকে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। নিয়মিত ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হয়েছে এবং ১০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনে র‌্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও জিআরপি পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। টিকেটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে স্টেশনে কিউ সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   ঘরমুখো মানুষ  রাজধানী  ঈদুল ফিতর 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: