প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পার্সোনাল সেক্রেটারি (পিএস) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় মো. আব্দুস সালামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. বুলবুল আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের আবেদন বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেন। প্রাথমিক তদন্তে আসামি মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেফতার আসামিকে অন্যান্য আসামিদের নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম, ঠিকানা, অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, কল ডিটেইলস, মেসেজ ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত ১৫ মার্চ সকাল ৭টায় রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামি মো. আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয় ব্যবহার করে আসছিলেন। এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে তিনি অবৈধ আর্থিক লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানাবিধ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছালে তদন্ত শুরু হয়। প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই ও প্রমাণের ভিত্তিতে গোয়েন্দা বাহিনীর একটি দল ভোরে আগারগাঁও পানির ট্যাংকি এলাকায় সালামের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।
সময়ের আলো/জেডআই