প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার একে একে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা চালুর পাশাপাশি দিনাজপুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশ গড়ার নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। আমরা সবার আগে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়া থেকে ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি একযোগে শুরু করা হলো। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩ টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন এবং তাদের জীবিকা কৃষিনির্ভর। কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে খাল খননের মাধ্যমে দেশের কৃষি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রধান শ্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন এবং কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই কৃষকদের সহায়তায় আমরা কৃষক কার্ড বিতরণ করবো, যাতে তারা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ পেতে পারেন। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক কলকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কাহারোল উপজেলায় এই খাল পুন:খনের মধ্যদিয়ে ৩১ হাজার কৃষক এখান হতে সেচ সুবিধা পাবেন। প্রায় ১২শ হেক্টর জমি এই খালের পানির সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। সারে ৩ লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবেন এবং বিভিন্ন কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে বর্তমানে এই এলাকার কৃষক ভাইয়েরা যা ফসল উৎপাদন করেন, এই খাল খননের পর প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
তারেক রহমান বলেন, আমি জানতে পেরেছি এ অঞ্চলের ছোট ছোট নদীগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মওসুমেও এখানে খরা দেখা যায়। আবার অতি বর্ষনে বন্যায় এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্ষার পানি ধরে রাখতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে খাল পুন:খনন কর্মসূচি গ্রহন করেছি। বর্ষার পানি আমরা সংরক্ষন করে কৃষক ভাইরা সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। খালের দুপাশে ফলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে দেশকে পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এবং দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধানমন্ত্রী খাল খনন কর্মসূচি শেষে সড়ক পথে দিনাজপুর শহরের উপশহরে অবস্থিত শেখ ফরিদ গোরস্থানে যান। সেখানে তিনি তার নানা মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানী তৈয়বা মজুমদার এবং বড় খালা সাবেক মন্ত্রী বেগম খুরশিদ জাহান হক এর কবর জিয়ারত করেন।
বিকেলে তিনি জেলা বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে যোগদান শেষে সন্ধ্যায় সৈয়দপুর হতে বিমান যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে দিনাজপুর ত্যাগ করেন।
/এমএইচআর