জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত ঈদের প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন।
সোমবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রশাসক জানান, এবার প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার আয়তনের ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। এর মধ্যে নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও স্থানে নামাজের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। মুসল্লিদের আরামদায়ক ইবাদত নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইট এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বৃষ্টি নিরোধক সামিয়ানা এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে।
প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লির একসঙ্গে ওজু করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবেশপথে ও ঈদগাহে পর্যাপ্ত খাবার পানির ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ময়দানে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য মোট চারটি ফটক এবং বের হওয়ার জন্য মোট সাতটি ফটক রাখা হয়েছে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকবে।
মো. আবদুস সালাম বলেন, এ প্রধান জামাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনৈতিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো প্রকার ধারালো সরঞ্জাম বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য মুসল্লিদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসক নগরবাসীকে পবিত্র ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এ সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ পরিবেশে আয়োজিত প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।