পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে শেকড়ের টানে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি শুরু হতেই সড়ক, নৌ ও রেলপথে দেখা দিয়েছে ঘরমুখো মানুষের ঢল।
রাজধানীর বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীদের ভিড়। কোথাও টিকেটের জন্য ছোটাছুটি, কোথাও আবার যানজট ও ধীরগতির ভোগান্তি। আবার কোথাও দুর্ঘটনার খবরে বাড়ছে উদ্বেগ। যদিও রেলপথে যাত্রীরা কিছুটা স্বস্তির কথা বলছেন, তবু সড়ক ও নৌপথে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে আজ থেকে এ চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে টিকেটের জন্য ছোটাছুটি করছে যাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে টিকেট পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।
বাসের টিকেট কাউন্টারগুলোর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে তেল না পাওয়া ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর কাক্সিক্ষত তেল না পাওয়া এবং ঢাকায় ফেরার পথে বাসগুলোকে যাত্রীশূন্য অবস্থায় ঢাকায় ফিরতে হয়। তাই দুই দিকের ভাড়া যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হয়। যাত্রীরা জেনেই দেয়। এতে যাত্রীদের অভিযোগ থাকে না।
গাবতলী-কল্যাণপুর বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নামিদামি প্রায় সব পরিবহনই দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে। কল্যাণপুরে শ্যামলী কাউন্টারে দেখা যায়, সেখানে নতুন করে কোনো টিকেট দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীরা আগেই যে টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তারাই কাউন্টারে উপস্থিত হয়েছেন। তারা বাসের অপেক্ষা করছেন। তবে সকাল ৯টার যাত্রীরা সাড়ে ১০টাতেও বাস পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. রেজাউল বলেন, দুদিন আগেই টিকেট সব শেষ হয়ে গেছে। কাউন্টারে কোনো টিকেট নেই। টিকেটের জন্য যাত্রীরা এসে ফিরে যাচ্ছে। আমরা দিতে পারছি না। এখন যারা আসছে তারা অগ্রিম টিকেট কেটে নিয়েছিল। দেরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তায় যানজটে বাস আটকে থাকায় যাত্রীদের একটু অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাত্রীরা যায়। এই টার্মিনালে তদারকি বেশি থাকায় এখানে বেশি ভাড়া আদায় অনেকটা লাগামের মধ্যেই থাকে। এই টার্মিনাল থেকে আগাম টিকেট না দেওয়ায় সবাই প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বাস ছাড়ে। টিকেটও সেই সময় অনুযায়ী নিয়ে থাকে। ফলে এখানে বাড়তি ভাড়া আদায় তেমন একটা দেখা যায় না। আর পরিবহন সংখ্যা অনেক থাকায় একটা পছন্দ না হলে আরেকটিতে টিকেট কেটে চলে যায়। ফলে বেশিরভাগই নির্দিষ্ট ভাড়া নেয়। আবার কেউ কেউ ৫০ বা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে থাকে। তবে বেশি নেওয়ার সংখ্যা খুবই কম।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা বাস মালিক পরিবহন সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বাতেন বলেন, ব্র্যান্ডের বাসগুলো ক্ষতি পোষানোর জন্য যাত্রীর সঙ্গে মিউচুয়াল করে ভাড়া একটু বেশি নেয়। তবে তারা সার্ভিস ভালো দেয়। আর নন ব্র্যান্ডের বাসগুলো তেমন বেশি ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পাইনি। সবাই আনন্দের সঙ্গে গ্রামে যাচ্ছে আবার ঢাকায় ফিরে আসবে। এই বাসগুলোই সাধারণ মানুষকে সেবা দিচ্ছে।
বাড়তি ভাড়া নয় বরং ভাড়া কমও নিচ্ছে; সড়কমন্ত্রী : প্রতি বছর ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ থাকলেও এবার গণপরিবহনগুলো নির্ধারিত ভাড়ার ‘বেশি আদায় করছে না’ বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দুয়েকটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। রবিউল আলম বলেন, কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবেন। পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাসগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।
সাভারে ৮ কিলোমিটার ধীরগতি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩ কিলোমিটার যানজট : এদিকে ভাড়ার ভোগান্তি ছাড়াও যাত্রাপথে মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টার যানজট ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। মহাসড়কে গণপরিবহনের চাপ বাড়ায় গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক ও আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট যানজট ভোগান্তির কারণে সড়কে যান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ করা গেছে।
এছাড়া গতকাল দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে মাইক্রোবাসের চালক ও যাত্রীরা আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে প্রায় ৩ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিনজনের : এদিকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস উল্টে আগুন ধরে গিয়ে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাগ গ্রামের মৃত আমিনুল ইসলাম মুন্নুর স্ত্রী শিউলী বেগম (৪৮), শিউলির ভাই মোমিনুল ইসলাম রিন্টু (৪৫) এবং ভাতিজি তাইয়েবা খাতুন (১২)।
মাইক্রোবাসে থাকা আহত তারিকুল ইসলাম, পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ঈদের ছুটিতে একই পরিবারের বিভিন্ন বয়সের ১৭ জন একটি মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তালুক শাহবাগ গ্রামে ফিরছিলেন। শুরু থেকে চালক দ্রুতগতিতে মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন।
বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পৌঁছে। সে সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে মাইক্রোবাসটি সড়ক বিভাজকে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। এতে গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন ধরে যায়। পরে শেরপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং হতাহতদের উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থলেই শিউলী বেগম, তার ভাই রিন্টু ও ভাতিজি তাইয়েবা নিহত হন। আহত হন অবশিষ্ট ১৪ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল এবং একজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কানায় কানায় পূর্ণ সদরঘাট, জায়গা নেই বিশেষ লঞ্চেও : নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের স্রোতে এখন কানায় কানায় পূর্ণ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। সরেজমিন দেখা যায়, পন্টুন থেকে শুরু করে লঞ্চের ডেক সবখানেই এখন উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি রুটে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হলেও মিলছে না কাক্সিক্ষত কেবিন। সব কেবিন আগেভাগেই বুকড হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।
গতকাল বুধবার বিকালে সদরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী রুটের লঞ্চগুলোতে মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। লঞ্চের ডেকে জায়গা পেতে যাত্রীরা প্রতিযোগিতা করছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনেককে দেখা গেছে ডেকের এক কোণে চাদর বিছিয়ে জায়গা দখল করতে।
তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো বড় অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যাত্রী চাপ সামলাতে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিক সমিতি বিভিন্ন রুটে বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা করেছে। তবে এ ব্যবস্থা ডেকের যাত্রীদের জন্য কিছুটা সহায়ক হলেও কেবিন সংকট মেটাতে পারছে না।
সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের ব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম বলেন, সদরঘাটে এখন উপচে পড়া ভিড়। যাত্রীদের চাপ সামলাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সদরঘাটের সার্বিক বিষয় নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. মুবারক হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ঘাট পয়েন্টে আমাদের টিম কাজ করছে। ছাদে যাত্রী ওঠানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো লঞ্চ নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেলপথে যাত্রীদের স্বস্তি : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে বুধবারও তেমন ভিড় বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। সরেজমিন কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা নির্বিঘ্নে স্টেশনে প্রবেশ করে নিজ নিজ গন্তব্যের ট্রেনে উঠছেন। টিকেটধারী যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও অতিরিক্ত ভিড় না থাকায় বিশৃঙ্খলা ছিল না। বুধবার ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিকাংশ ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় কম ছিল। তবে সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে মাঝারি ভিড় লক্ষ করা গেছে।
বুধবার ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ায় যেসব ট্রেন রাতে বা ভোরে ঢাকায় আসার কথা সেগুলো কিছুটা দেরিতে এসেছে। সে জন্য বৃহস্পতিবার ওই রুটের ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানান, বুধবার সারা দিনে মোট ৫৫টি ট্রেন চলাচল করবে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং তিন জোড়া বিশেষ (স্পেশাল) ট্রেন রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত ২৫টি ট্রেন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। কোথাও কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই।
কমলাপুর স্টেশনের একাধিক যাত্রী জানান, স্টেশনে কোনো ভোগান্তি হয়নি। ট্রেনও সময়মতো ছাড়ছে। এবারের যাত্রা অনেক স্বস্তির।
নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেসের যাত্রী সোহেল হাসান বলেন, ভিড় কম থাকায় টিকেট নিয়ে সহজে ট্রেনে উঠতে পেরেছেন। পরিবেশও ভালো।
সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে যুবক নিহত : রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। এ ছাড়া দুজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত যুবকের নাম সোহাগ (২২)। আহত নারীর নাম রেবা (২০)। বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম সোহাগ। রেবা নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী আহত হয়েছেন, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহত নারী ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার ওসি সোহাগ রানা বলেন, আমরা অনেক নিখোঁজের খবর পাচ্ছি। ঘটনাস্থলে নৌ-পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত দুজন নিখোঁজ হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত তথ্য পেয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকাল সাড়ে ৫টায় সদরঘাটে ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় পেছন থেকে ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামের আরেকটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়। এতে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চের আঘাতে অপেক্ষমাণ লঞ্চে থাকা কয়েকজন যাত্রী পিষ্ট হন। এদের মধ্যে রেবা আক্তার নামের এক নারী গুরুতর আহত হয়ে নদীতে পড়ে যান।
পুলিশ জানায়, বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠতে গিয়ে পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যেই তিনি পানিতে পড়ে যান। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সময়ের আলো/আআ