গণপরিবহনে জিপিএস বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতি উঠলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, সড়কে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সরকারের কার্যক্রম জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জিপিএস সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। জিপিএস সিস্টেম আমরা চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব পাবলিক পরিবহনে জিপিএস থাকবে। তাহলে দেখবেন যে নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি সম্ভব হবে। স্পিড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, গাড়ির অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে ট্র্যাফিক রুলস মানছে না নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, কে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে যাত্রী নিয়ে চলে যাচ্ছে, মানে টিকিট ছাড়াই যাত্রী তুলে ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছে, সেগুলোও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি সভায় জিপিএস চালু করার একটা ডিসিশন হয়েছে। এই জিপিএস চালুর প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মালিক এবং শ্রমিকরা, তবে তারা এখানে একমত হয়েছে যে, জিপিএস চালু হওয়া উচিত। এ বিষয়টি পজিটিভ।
এসময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সব বাস বা কমার্শিয়াল পরিবহনে জিপিএস ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জিপিএস ইনস্টল করলে, এর মাধ্যমে যারা ওভার স্পিড করবে, ৮০ কিলোমিটার বা ৬০ কিলোমিটার, এটার লিমিটের বাইরে যারা যাবে, তাদের প্রত্যেকের রেকর্ড ফুটেজ আসবে আমাদের কাছে। যেই বাস বা পরিবহন এটা অমান্য করবে, সে অনুযায়ী জরিমানা গুণতে হবে তাদের। যারা রুট অমান্য করবে, অর্ধেক পথ থেকে ফিরে যাবে। অর্থাৎ, জিপিএস-এর মাধ্যমে জিও-ফেন্সিং সহ যেখানে রুট নির্ধারিত ছিল, সেই এলাকার বাইরে গেলে বা রুট ভায়োলেট করলে, সেটা দিয়েও মামলা হবে।
তিনি জানান, জিপিএস-এর মাধ্যমে আমরা এটাও জানতে পারবো যে, আনফিট বাসগুলো রাস্তায় নেমেছে কি না। কারণ, একটা বাসের ফিটনেস দুই বছর পর পর পরীক্ষা করতে হয়, ফিটনেস নিয়ে চালাতে হয়। এখন, ওইটা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে কারা কারা ফিটনেস নবায়ন করে নাই। কিন্তু সে রাস্তায় না নামলে, আমরা তাকে জরিমানা করতে পারি না। জরিমানা করলে বলে যে, আমি তো চালাই নাই, আমি তো ফিটনেস সেন্টারে ওয়েট করছি। কিন্তু সে রাস্তায় নামালে ওই ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এরকম নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বিআরটিএ সহ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করবে। জিপিএস-এর যে কন্ট্রোল রেগুলেশন সফটওয়্যার, এভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং এই ডিজিটাল সিস্টেমে অলরেডি আমরা ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশ সিসি ক্যামেরা রেকর্ড দ্বারা, স্পিড ক্যামেরা রেকর্ড দিয়ে কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমে মামলা চলমান আছে। অতএব, আস্তে আস্তে এটা শৃঙ্খলায় আসবে।
জিপিএস কি শুধু হাইওয়ের গাড়িতে বসবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জিপিএস সব গাড়ির জন্য। ধরেন একটা গাড়ি ঢাকার ভেতরে ঢোকার কথা না, সে গাবতলী পর্যন্ত থাকবে, এখন সে চলে এলো কলাবাগান পর্যন্ত বা এদিকে আরামবাগ পর্যন্ত। ওই গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে। এই যে রাস্তায় জোর জবরদস্তি করে যারা, তাদেরকে মামলা দেওয়া যাবে, যাদের রুট পারমিট নাই, ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করছে কেন, ওই আমিনবাজার ক্রস করলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
/ইউএমএইচ