দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস বা ১৫০ দিন পূর্তিতে বিএনপি সরকারের সাফল্যের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৫টি প্রধান ক্ষেত্রে সরকারের অর্জনের কথা জানান।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত হলে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
সরকার যৌক্তিক সমালোচনা পছন্দ করে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে ভুলত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান জানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার তাগিদ দেন।
তিনি জানান, সরকার পাঁচ মাসে অর্জিত সাফল্যকে পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে ভাগ করেছে। এগুলো হলো— জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন; নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা; স্বল্প সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা; জনগণের স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার; এবং প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।
১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনকালের সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্য দিয়েই পতিত স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিল, আইনের অনুশাসন সুনিশ্চিত করে স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের বিচার করা হবে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বিএনপি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণী-পেশা ও গণতান্ত্রিক দলের ত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অর্জিত হয়েছে। গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গঠনে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য এবং বর্তমান সরকারও অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় বৃহত্তর সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রত্যাশাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনস্থ পাঁচটি জেলায় পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও বাকি দেশে পরীক্ষা সচল রাখা হয়েছে।
কুমিল্লার একটি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পানি ওঠার ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করেছিল এবং পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দিয়ে দ্রুত সংকট সমাধান করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, বর্তমান সরকার বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের ৩১ দফা ও জুলাই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে। ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের সামাজিক ও মূল্যবোধের জায়গায় যে চরম অবনতি হয়েছে, তা দূর করে গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়তে মতাদর্শের পার্থক্য ভুলে তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকতা বনাম অপসাংবাদিকতার পার্থক্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং এতে প্রেস উইংয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জেডি