মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি বলেন, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো মস্কোর ‘ভালো অংশীদার’ ও ‘বন্ধু’, এবং এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী রাশিয়া।
এদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর বিমান হামলা চালায়। এতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই হামলার জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে আঞ্চলিক রূপ নিচ্ছে এবং বৃহত্তর যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার, পশ্চিমা জোটের বিপরীতে ভারসাম্য তৈরি এবং জ্বালানি খাতে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করছে মস্কো।
পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে, স্বর্ণের দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশের বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো মস্কোর এই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয়।
/ইউএমএইচ