বাজেট বাড়ানোর দাবি প্রশাসকদের, নাকচ প্রধানমন্ত্রীর

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

জেলা পরিষদের কোনো কাজের মাধ্যমে সরকার ও দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে সেদিকে প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

2026-03-31T12:40:18+00:00
2026-03-31T12:40:18+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
বাজেট বাড়ানোর দাবি প্রশাসকদের, নাকচ প্রধানমন্ত্রীর
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম 
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
জেলা পরিষদের কোনো কাজের মাধ্যমে সরকার ও দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে সেদিকে প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দ্রুতই পরিষদের নির্বাচন হবে, এমন আভাস দিয়ে জনগণের আস্থা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।একইসঙ্গে বর্তমান বাজেটের মধ্যেই সর্বোচ্চ কাজ করার কথা বলেছেন। দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে জেলা পরিষদের বাড়ানোর আপাতত চিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা।

ঈদের কিছুদিন আগে নিয়োগ দেওয়া দেশের ৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসককে প্রথমবারের মতো বৈঠক করলেন সরকার প্রধান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাদেড়েকের মতো চলা এই বৈঠকে প্রশাসকদের বেশকিছু দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

ঈদের আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এসব জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এতদিন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

নিয়োগ পাওয়া এই প্রশাসকদের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হওয়া অন্তত আটজন রয়েছেন। তারা হলেন, কুড়িগ্রাম–২ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–৩ আসনের সাবেক এমপি, গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, টাঙ্গাইল–৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ময়মনসিংহ–১ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রংপুর–৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম, গাইবান্ধা–৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, বাগেরহাট–২ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং খুলনা–৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান।

বৈঠক শেষে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এমরান সালেহ প্রিন্স সময়ের আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনাদের যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা শতভাগ নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবেন। বিগত সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের অনেক বদনাম ছিল। আপনারা এমন কোন কাজ করবেন না, যাতে দল এবং সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। এই দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে দিয়ে আপনাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আপনারা নিজেদের পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন। জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন কল্যাণমূলক কাজ দিয়ে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জেলা পরিষদ স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর রাজনৈতিক গুরুত্বও অনেক। সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর দেখতে চায়। বিগত বছরগুলোতে জেলা পরিষদ নির্জীব নিষ্ক্রিয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল।  

প্রধানমন্ত্রী প্রশাসকদের স্মরণ করিয়ে দেন, তাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেটি দীর্ঘমেয়াদী নয়। স্বল্প সময়ের জন্য এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিগগিরই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
 
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, আমরা পরিষদের বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছি৷ জবাবে প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা দেশের সামগ্রিক অবস্থার কথা বলেছেন। এখনই বাজেট বাড়ানো সম্ভব নয় জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত ১৭ বছরে লুটপাট করে সব ফতুর করে দেওয়া হয়েছে। তাই সহসাই বাজেট বাড়ানোর চিন্তা নেই৷ সীমিত বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ কাজের চেষ্টা করতে হবে। 

এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন বর্তমানে বৈশ্বিক দেশীয় অর্থনীতির কারণে পরিষদের বাজেট বাড়ানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তখন বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে তেলের বাজার বেড়েছে কিন্তু আমরা এখনো দাম বাড়ায়নি। জানি না কতদিন পর্যন্ত এটি ধরে রাখতে পারব। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখা।

জানা যায়, বৈঠকে কয়েকজন প্রশাসক প্রথমে তাদের অভিব্যক্তি ও মতামত তুলে ধরেন।  বেশিরভাগ নেতা দলের চেয়ারম্যানের প্রশংসা করেন। প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ায় তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান৷ দায়িত্ব পালন কর্মদক্ষতা দেখাবেন, এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেলা পরিষদের স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রশাসনিক কাজের মধ্যে দিয়ে দলীয় সুনাম বাড়ানোর কথাও বলেন প্রশাসকরা৷ 

বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন নতু৷ কাজের মাধ্যমে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়নের কার্যক্রমে গতি আনতে হবে। আমরা যেই লক্ষ্যে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের এই টালমাটাল অর্থনীতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হাত দিয়েছেন। সুতরাং সবকিছু মাথায় নিয়ে আমাদের কাজ কর‍তে হবে।

পরিষদের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা দাবি 

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদমর্যাদা চেয়েছেন প্রশাসকরা। জবাবে সরকার প্রধান বলেছেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের পদমর্যাদাকে সরকার ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ হিসেবে দেখলেও তাদের কোন মর্যাদা দেওয়া হবে, এখনও সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়নি।

বৈঠকে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান। সময়ের আলোকে তিনি বলেন, বৈঠকের শুরুতেই আমি কথা বলেছি। প্রথমে দলের চেয়ারম্যানের কাছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কিছু মান অভিমানের কথা বলেছি। তারপর জেলা পরিষদ সম্পর্কে কিছু কথা বলেছি৷ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের স্ট্যাটাস। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকার এই পদমর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও তার প্রয়োগ হয়নি৷ আওয়ামী লীগের আমলে হেডকোয়ার্টারের চেয়ারম্যানদের প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে জোর দাবি করেছি যাতে নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে সম্মানজনক পদমর্যাদা দেওয়া হয়। 

এছাড়া পরিষদের রাজস্ব খাতের বাজেট অনুমোদন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহারের দাবি জানিয়েছি৷ বিষয়টি সহজ করতে জেলা পরিষদের মাসিক সভায় রাজস্ব খাতের বাজেট অনুমোদনের নিয়ম চালু করতে বলেছি৷ এতে সময় কম লাগবে। 
তিনি জানান, বৈঠকে বেশিরভাগ প্রশাসকই ফান্ড না থাকার কথা বলেছেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন 'বিএনপি সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে৷ স্বল্প ফান্ড নিয়েই স্বচ্ছ ও জবাদিহিমূলক কাজ করতে হবে'। 

বৈঠকের এক পর্যায়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মানুষ ছোট, দুর্নীতি অনেক বড়। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক বদনাম হয়েছে গত সরকারের সময়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

/এমএইচআর 


  বিষয়:   জেলা পরিষদ প্রশাসক  প্রধানমন্ত্রী 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: