ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছে সরকার

এসএম আলমগীর

জাতীয়

চলমান নানা রকম সংকট নিয়ে আলোচনা করতে দেশের শীর্ষ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

2026-04-03T01:13:49+00:00
2026-04-03T01:13:49+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছে সরকার
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
চলমান নানা রকম সংকট নিয়ে আলোচনা করতে দেশের শীর্ষ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বসতে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে। শনিবার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
 
বৈঠকে যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট, সংশোধিত শ্রম আইন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গ এবং বিএনবিসি কোডের বিভিন্ন ধারার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তিসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বৈঠকে আলোচনা হবে। ব্যবসায়ী সংগঠন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। 

সূত্রে আরও জানা গেছে, মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি শনিবারেই হবে না অন্য কোনো দিন- সেটি এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। 

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, নির্বাচনের আগে গত ৪ জানুয়ারি আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। সে বৈঠকে আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গ, শ্রম আইনসহ আরও কিছু ইস্যুতে কথা বলেছিলাম। 

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমানের সঙ্গে এখনও আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছি কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য এখনও আমাদের চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি। তবে আমাদের জানানো হয়েছে কয়েকজন মন্ত্রীর একটি টিমের সঙ্গে নাকি আমাদের আগে বসার জন্য বলা হয়েছে। তার আলোকেই শনিবার মন্ত্রীদের সঙ্গে বিকেএমইএ, বিজিএমইএসহ হয়তো আরও কয়েকটি সংগঠনের নেতাদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। 

বৈঠকটি সচিবালয় বা বিএনপির পার্টি অফিসে হবে না- হয়তো কোনো হোটেলে বা বিকল্প কোনো জায়গায় হতে পারে। মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক হবে কি না সেটিও আমাদের এখনও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

কোন কোন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে এবং কোন কোন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হাতেম সময়ের আলোকে বলেন, যদিও ঠিক কোন কোন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে সেটিও এখনও আমাদের চূড়ান্ত করে জানানো হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন আমাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেন। আর বৈঠকে মূলত আমরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যু নিয়ে কথা বলব। 

এর মধ্যে আছে- যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট। যদিও ইতিমধ্যে জ্বালানি সংকট নিয়ে আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবে- তার একটা গাইডলাইন আমাদের দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শনিবারের বৈঠকে সংশোধিত শ্রম আইন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ইস্যু নিয়েও আমরা কথা বলব। 

যদিও নির্বাচনের আগের ৪ জানুয়ারির ওই বৈঠকের পরই সরকার গঠন করে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানোর আবেদন করা হবে। গত সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রী ডব্লিউটিওর বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। শনিবারের বৈঠকে আমরা এ বিষয়েও অগ্রগতি জানতে চাইব সরকারের কাছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে শনিবারের ওই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে এহসান শামীম সময়ের আলোকে বলেন, আমি যতটা জানি বা আমাকে যতটা জানানো হয়েছে শনিবার আমরা গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কারণ বিএনবিসির বিল্ডিং কোডের অনেকগুলো ধারা নিয়ে আমাদের জোর আপত্তি আছে। বিতর্কিত অনেক ধারার জন্য আমরা যারা শিল্প-কারখানা মালিক- তাদের অনেক সমস্যা ফেস করতে হচ্ছে। 

যেমন বিএনবিসির নতুন ধারায় বলা হয়েছে- নতুন বিল্ডিংয়ে ফায়ার পেইন্ট করতে হবে, পুরোনো বিল্ডিংয়ে করতে হবে না। যেমন আমার কারখানায় পাশাপাশি দুটি বিল্ডিং আছে। একটি ২০১৩ সালের তৈরি, অন্যটি ২০১৯ সালের। সরকারি কর্মকর্তারা এসে বলছেন, ২০১৩ সালেরটিতে ফায়ার পেইন্ট করতে হবে না, ২০১৯ সালেরটাতে করতে হবে। আমি বললাম, আগুন যখন লাগবে তখন কি নতুন পুরোনো বিল্ডিং দেখবে। তখন তারা বলল, আমরা এত কিছু জানি না, বিল্ডিং কোডে যেভাবে বলা আছে আমরা সেটি ফলো করব। 

আবার বিল্ডিং কোডে বলা হয়েছে কারখানার সিঁড়ির পাশাপাশি লিফটের সামনেরও ফায়ার ডোর লাগাতে হবে। কেন লিফটের সামনে কেন ফায়ার ডোর লাগাতে হবে। আগুন লাগলে বা কোনো দুর্ঘটনা লাগলে তো লিফট ব্যবহার করতেই নিষেধ করা হয়, তা হলে লিফটের সামনে কেন ফায়ার ডোর দিতে হবে। বিএনবিসির এরকম কিছু বিতর্কিত ধারা নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে এবং এসব ধারার কারণে কারখানা মালিকদের প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। তাই গৃহায়ণ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আমরা এগুলো সংশোধনের দাবি জানাব। 

ফজলে এহসান শামীম আরও বলেন, সংশোধিত শ্রম আইন নিয়েও আমাদের অনেক আপত্তি আছে। যেমন একটি ধারায় বলা হয়েছে- কোনো কারখানায় ১০০ জন শ্রমিক হলেই প্রভিডেন্ট ফান্ড দিতে হবে। এ নিয়ম থাকলে ছোট ছোট অনেক কারখানা মালিক মানতে পারবে না। আমরা বলেছি এটা অন্তত ৫০০ জন করা হোক। আবার বলা হয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করতে হবে এবং সরকার কর্তৃক প্রবর্তন করা পেনশন স্কিম ‘প্রগতি’ও চালু করতে হবে। 

এখানেও আমাদের আপত্তি আছে। এ ছাড়া ২০ জন শ্রমিক হলেই সংগঠন করার বিধান, নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও মজুরিসংক্রান্ত বিধানসহ আরও কিছু বিধান নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। শ্রমমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমরা এসব ইস্যুতে কথা বলব।

এদিকে বৈঠকের বিষয়ে জানতে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু ও বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন কল না ধরায় তাদের মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি উপস্থিত থাকবেন বলে জানান বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   ব্যবসায়ী  সরকার 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: