ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে বিশেষ সংরক্ষণ অভিযান। মঙ্গলবার থেকে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ পালিত হবে, যা চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময় দেশের সব নদ-নদী ও সাগরে জাটকা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার (৬ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সম্পদ সংরক্ষণে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের ফলে দেশে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। তবে নদী ভরাট, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে এই ধারা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
ইলিশ শুধু একটি মাছ নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। জিডিপিতেও এর অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়, যা দেশটিকে এই খাতে শীর্ষ অবস্থানে রেখেছে।
এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’। দেশের ২০টি জেলায় সপ্তাহটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় উদ্বোধন হবে চাঁদপুরে, পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।
আরও পড়ুন
জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে দুই মাসে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা। প্রয়োজনে এই সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আগামী পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন- উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত মূল্য সমন্বয়ের উপায় খুঁজতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতে ইলিশ রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি নিয়মিত বাণিজ্যিক রপ্তানি নয়; বিশেষ উপলক্ষে সৌজন্যমূলকভাবে সীমিত পরিমাণ পাঠানো হয়। এছাড়া অবৈধ জাল উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহকে কেন্দ্র করে সরকার ইলিশ সম্পদ রক্ষা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ- এই তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএডি/