রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে গৃহবধূসহ দুজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন- হাজারীবাগ এলাকার লামিয়া আক্তার (১৯) ও লালবাগের আইয়ুব আলী (৩৭)। তবে তারা গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাজারীবাগ সোনাগড় এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁসি দেয় গৃহবধূ লামিয়া আক্তার(১৯) পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সকাল পৌনে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে বুধবার রাত ১২টার দিকে লালবাগ আতশ খান রোডের বাসা থেকে থেকে আইয়ুব আলীকে (২৬) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
মৃত লামিয়ার স্বামী মো. আজমান জানান, স্ত্রী লামিয়ার সাথে হাজারীবাগ সোনাগড় এলাকার ৫ তলা বাসার ৩য় তলার ভাড়া থাকি। লামিয়া একটি পার্লারে কাজ করতো। মাঝে মাঝে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগতো। গত রাতেও নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অনেক ডাকাডাকি করে কোন সাড়া পাওয়া যায় না। এরপর দরজা ভেঙে দেখা যায় লামিয়া ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। পরে থানা পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
তিনি জানান, লামিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার নয়াপাড়া গ্রামে। বাবার নাম এমদাদুল হক।
এদিকে লালবাগ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তাহের মোল্লা জানান, মৃত আইয়ুব আলীর বাড়ি বগুড়া জেলার শাহজাহানপুর থানার সুজাবাদ গ্রামে। বাবার নাম আব্দুস সোবহান। লালবাগ আতশ খানা লেনের রোকেয়া ভিলা ৫ তলার ২য় তলার তিনজন মেস করে থাকতেন। আইয়ুব আলী ইডেন মহিলা কলেজের অফিস সহকারী ছিলেন।
তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে দুজন রুমমেট বাসায় এসে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ পায়। অনেক ডাকাডাকির পরও কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেয়। গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখে সহপাঠীরা প্রথমে ফায়ার সার্ভিস খবর দিলে, ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙ্গে ফ্যানের সাথে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে থানা পুলিশ ঝুলন্ত থেকে নামিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে মারা যায়।
এসআই জানান, কেন তিনি আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে কিছুই জানতে পারি নাই। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
এএডি/