আমদানি-রফতানি বেড়েছে, সঙ্গে চাপও বেড়েছে : সংসদে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

দুই দশক আগে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছরে দেশের অর্থনীতি কেমন ছিল, তার সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের

2026-04-10T18:38:58+00:00
2026-04-10T18:52:48+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
যুদ্ধের কারণে নতুন চাপ, নতুন বাজেটের প্রত্যাশা
আমদানি-রফতানি বেড়েছে, সঙ্গে চাপও বেড়েছে : সংসদে অর্থমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম  আপডেট: ১০.০৪.২০২৬ ৬:৫২ পিএম
সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত
দুই দশক আগে খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ বছরে দেশের অর্থনীতি কেমন ছিল, তার সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের শেষ বছরের অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্র সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘দেড় যুগের ব্যবধানে অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি পেলেও এর ভেতরে বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠেছে।’ 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে এ বিষয়ে বিবৃতি দেন তিনি।

প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ব্যবধান
অর্থমন্ত্রী তার বিবৃতিতে জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে অর্থাৎ খালেদা জিয়া সরকারের শেষ বছরে স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সে সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। অথচ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধি কমে ৪ দশমিক ২২ শতাংশে নেমে এসেছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশে। তিনি বলেন, ‘হাসিনা সরকারের আমলে প্রবৃদ্ধি কেবল কাগজে-কলমে বেড়েছে, যার সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি।’

শিল্প ও কৃষিতে স্থবিরতা
শিল্প ও কৃষি খাতের চিত্র তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, ‘২০০৫-০৬ সালে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে মাত্র ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে নেমেছে। কৃষিতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় তরুণদের জোর করে কৃষিতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা ছদ্ম-বেকারত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কৃষিখাত জাতীয় আয়ে মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ অবদান রাখলেও ৪১ শতাংশ মানুষ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।’

মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের সংকট
টাকার মানের নজিরবিহীন অবমূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৬৭ দশমিক ২ টাকা। যা বর্তমানে ১২১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ১৫ বছরে টাকার মান প্রায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঋণের বোঝা ও সুদের উদ্বেগ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঋণের কাঠামোতে ‘অস্বাস্থ্যকর পরিবর্তন’ এসেছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তার দেওয়া তথ্যমতে, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে ১৩ গুণের বেশি বেড়ে ১ হাজার ১৪৭ বিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে অতিমূল্যায়ন এবং লুটপাটের মাধ্যমে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যার বোঝা এখন সাধারণ জনগণকে টানতে হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি
ব্যাংকিং খাতকে ‘ধ্বংসের কিনারে’ নিয়ে যাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৫ সালে খেলাপি ঋণের হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২০ দশমিক ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা পাশ কাটিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মাথাপিছু আয় বৈষম্য
মাথাপিছু আয় বাড়লেও তা মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগীর হাতে কুক্ষিগত হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আয়ভিত্তিক জিনি সহগ ২০০৫ সালের ০ দশমিক ৪৬৭ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ০ দশমিক ৪৯৯-এ দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় দরিদ্র ৫ শতাংশের চেয়ে ৮১ গুণ বেশি হয়েছে, যা ২০০৫ সালে ছিল মাত্র ৩৫ গুণ।

১ কোটি কর্মসংস্থান ও আগামীর পরিকল্পনা
বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’তে নিতে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এর মধ্যে আইসিটি খাতে ১০ লাখ এবং পর্যটন ও অবকাঠামো খাতে আরও ১০ লাখ কর্মসংস্থান অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া ৫০ লাখ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রকৃত কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও নতুন চ্যালেঞ্জ
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি আশ্বাস দেন যে, জনগণের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকার এখনই জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে না।
সবশেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জরাজীর্ণ অর্থনীতি মেরামত করে একটি টেকসই, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্য।



  বিষয়:   হাসিনা  খালেদা  অর্থমন্ত্রী  সংসদ 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: