বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী সরকারি বাসভবন নেই। সরকারপ্রধানের জন্য নতুন বাসভবন নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ এখন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিত। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই থেকে গেছেন। এখন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য কাজ করছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য হেয়ার রোড, মিন্টো রোড অথবা বেইলী রোড এ এলাকাগুলোতে জায়গা দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সচিবালয়ের সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগে যেন অসুবিধা না হয়, সেটাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জায়গা নির্বাচন করতে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা জায়গা নির্বাচন করে মন্ত্রণালয়কে জানাবে। পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে ফাইনাল ডিসিশন (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত) নেবেন মন্ত্রী।
এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাসভবনের জন্য আমরা হেড অব আর্কিটেক্টের সঙ্গে আলোচনা করছি। এর মূল সামারি আমরা মন্ত্রণালয়ে জমা দেব। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আমরা জায়গা দেখছি। সচিবালয়কেন্দ্রিক যাতায়াত যাতে সহজভাবে করা যায়, এমন জায়গায় তৈরি করা হবে। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড- এসব এলাকার পাঁচ-ছয়টি ভবন অধিগ্রহণ করে বাসভবন তৈরি করা হবে। বহির্বিশ্বের প্রধানমন্ত্রীদের বাসভবনের সব সুযোগ-সুবিধা ও ডিজাইন ফলো করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেফটির জন্য বাসভবনে মাটির নিচে বাংকার এবং টানেল তৈরি করা হবে। সর্বোচ্চ সিকিউরিটি মেনে বাসভবন তৈরি করা হবে।
এদিকে গুলশান অ্যাভেনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর ২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশে ফিরে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই সপরিবারে ওঠেন তিনি। এরপর থেকে সেখানেই বাস করছেন। ১৯৬ নম্বর বাড়িটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে তার সহধর্মিনী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভা।
সময়ের আলো/জেডআই