‘বাংলাদেশ মানেই স্পিন’- এই পুরোনো ধারণা ভেঙে দিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার। তার মতে, বর্তমান বাংলাদেশ দল শুধু স্পিন নির্ভর নয়, বরং পেস ও স্পিন- দুই বিভাগেই সমানভাবে হুমকি হয়ে উঠেছে। তবে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দেখছেন বাংলাদেশের তীব্র গরম ও পরিবর্তিত ম্যাচ সময়সূচিকে।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ মানে একটা সময় ছিল স্পিন নির্ভর। মিরপুরের মরা উইকেটে স্পিনাররাই জেতাতেন দলকে। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছে দল, যা এখন প্রতিপক্ষের মাথাব্যথার কারণ। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ওয়াল্টার বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশ দলে অসাধারণ কিছু পেস বোলার আছে। তারা সবদিক থেকেই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, আগের মতো শুধু স্পিন নির্ভরতা নেই, বরং এখন প্রতিপক্ষকে সবদিক থেকেই চাপে ফেলতে সক্ষম টাইগাররা।
উইকেট নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন কিউই কোচ। কিউরেটররা তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক উইকেটের আভাস দিলেও সেটিকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি, ‘এটা কি আমাদের জন্য কিছুটা সুবিধা এনে দিতে পারে? হতে পারে। কিন্তু আপনাকে সবকিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
সাম্প্রতিক কন্ডিশনের বৈচিত্র্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি, ‘আমরা এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ দেখেছি, যা স্পিন ও পেসের দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। এতে বোঝা যায় কন্ডিশন কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। আমরা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে চাই না ম্যাচটা কেমন হবে। যদি কোনো সুযোগ আসে, আমরা সেটা কাজে লাগাব, সেটা স্পিন হোক বা পেস।’
ঢাকার তাপমাত্রা বড় চ্যালেঞ্জ কিউইদের জন্য। সিরিজ দিবারাত্রির হওয়ার কথা থাকলেও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দিনের আলোতেই হবে ম্যাচের বেশিরভাগ অংশ। তাই পরিকল্পনাও পরিবর্তন করা লাগছে কিউইদের। কোচ জানালেন দলের পরিকল্পনা নির্ভর করবে পুরোপুরি কন্ডিশনের ওপর, ‘কন্ডিশন আমাদের যা বলবে, আমরা সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাব। আশা করি সেটাই ম্যাচ জেতা-হারার পার্থক্য গড়ে দেবে।’
কিউইদের জন্য বাইশ গজের থেকে মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জও কম নয়। জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে ম্যাচের সময় এগিয়ে এনে দুপুরের দিকে নেওয়া হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও নতুন সময়সূচি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন নিউজিল্যান্ড কোচ, ‘নিশ্চিতভাবেই এটা ভিন্ন। এখানে আসলে আমরা এমনটাই আশা করি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের আগে দুয়েক দিন সময় যথেষ্ট নয় পুরোপুরি মানিয়ে নিতে। দুয়েক দিনের মধ্যে আসলে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ নেই, শেষ পর্যন্ত বিষয়টা এমনই।’
তবু বাস্তবতা মেনে নেওয়ার কথাই বলেছেন তিনি, আমাদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। গরমের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ। এখন আর ডিউ ফ্যাক্টর নেই, ফলে ব্যাট-বলের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও সমান হতে পারে। তবে সারা দিন রোদে থাকার কারণে উইকেট ধীর হয়ে যেতে পারে।
এই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের জন্য শুধু প্রতিপক্ষ নয়, বাংলাদেশের আবহাওয়া ও কন্ডিশনও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আর সেই পরীক্ষায় টিকে থাকতে হলে মাঠে যেমন দক্ষতা দরকার, তেমনি প্রয়োজন দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও।
সময়ের আলো/আআ